আশরাফুল ইসলাম (শেকৃবি প্রতিনিধি):
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) আওয়ামী লীগের প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগে এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইলিয়াসুর রহমানের বাসা থেকে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মুকিব মিয়াকে সোমবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখার দাবি জানায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে মুকিব মিয়ার বিরুদ্ধে। তদন্তে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা দাবি তোলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মানবতাবিরোধী দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করছে।
শেকৃবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি তাপস কবির বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ থাকার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছেন। আমরা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ চাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছি।”
এ ঘটনার সূত্রধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে দাবি গুলো হলে: বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অপসারণ, অভ্যুত্থানবিরোধী শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ আশ্বাস দিয়েছেন যে,
“তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় প্রস্তুত, সিন্ডিকেট সভার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”
তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।