রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সাবেক সেনাপ্রধানের চোখে ২৪ ’এর বিপ্লব যেভাবে বেহাত হলো

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনের দিক পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই জেনারেল নিজের ফেসবুকে তুলে ধরেছেন আলোচিত সে সময়ের নানা ঘটনাপ্রবাহ। তার দৃষ্টিতে কেমন ছিল চব্বিশের বিপ্লব? জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া সামাজিক […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৭:০৯

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনের দিক পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

২০১২ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই জেনারেল নিজের ফেসবুকে তুলে ধরেছেন আলোচিত সে সময়ের নানা ঘটনাপ্রবাহ। তার দৃষ্টিতে কেমন ছিল চব্বিশের বিপ্লব?

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৩টি গণঅভ্যুত্থান দেখেছে। সেসব গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী কখনোও বিপ্লবী জনতার পাশে থেকেছে, কিংবা কখনও নিরপেক্ষ থেকেছে।

৩টি গণঅভ্যুত্থানের প্রথমটি ঘটে ১৯৭১ সালে। এরপর হয়েছে ১৯৯০ এবং সবশেষ ২০২৪ সালে। তবে ২৪’এর বিপ্লবকে ‘আধা-বিপ্লব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সেই সাথে বিপ্লবীরা কীভাবে নতুন ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সুযোগ হারালো, সে বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ৩য় প্রধান ঘটনাটি ঘটে, যাকে ‘আধা-বিপ্লব’ বলা যেতে পারে। কারণ, পুরোপুরি বিকশিত হবার আগেই ফ্যাসিবাদী সরকারের সংবিধান, রাষ্ট্রপতি ও সামরিক বাহিনী মিলে একে আটকে দেয়। বঙ্গভবনকে বড় ধরনের বিপ্লবের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখা হয়।

২৪-এর বিপ্লব ঘিরে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করা এখনও কেন সম্ভব নয়, তার ব্যাখ্যাও দেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর অবস্থান খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সেই সঙ্গে কিছু প্রশ্নও সামনে আনেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা হলো, শেখ হাসিনা কীভাবে পালিয়ে গেলেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং পুলিশ কীভাবে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় পেলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব তথ্যের ঘাটতি পূরণ হলে মিলবে সেনাবাহিনীর প্রকৃত ভূমিকা।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া লিখেছেন, আজ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জুন, জুলাই এবং আগস্টে কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলা এই আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর সঠিক ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারিভাবে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

সেই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন তদন্ত আদালত গঠন করা হয়নি। ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা তথ্যের টুকরো মিললেও, সেগুলো দিয়ে সেনাবাহিনীর আসল আচরণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। এজন্য এ বিপ্লবকে ফরাসি ও রুশ বিপ্লবের সাথে তুলনা করা কষ্টকর।

আন্দোলনের সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক প্রোফাইলের কাভার ও প্রোফাইল ছবি ‘লাল’ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার এই পদক্ষেপ সেসময় যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। সাথে এটাও জানান, অনুরোধের পরেও আগের প্রোফাইলের ছবিতে না ফেরায় তার ওপর বিরক্ত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া লিখেছেন, ‘নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন, বিশেষ করে আবু সাঈদের নির্মম হত্যাকাণ্ড দেখে কয়েক রাত নির্ঘুম কাটানোর পর আমি তাদের অনুরোধ রাখতে মনস্থির করি। কিন্তু নিজে তেমন প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন না হওয়ায়, ছোট মেয়েকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি কীভাবে ছবিটি পরিবর্তন করতে হয়। সে দ্রুতই লাল রঙের একটি গ্রাফিক পাঠায়, যেটি আমি আপলোড করি। তারিখ ছিল ৩১ জুলাই, ২০২৪।’

জেনারেল আরও বলেন, আমার ধারণা ছিল না, এই পদক্ষেপের প্রভাব কতটা গভীর হবে। মাত্র ৬ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য সেনাসদস্যদের ফেসবুক প্রোফাইল ছবি লাল হয়ে যায়। শেখ হাসিনার নির্দেশে তার সামরিক সচিব ফোন করে আমাকে অনুরোধ করেন আমি যেন আগের প্রোফাইলের ছবিতে ফিরি।

আমি রাজি হইনি। এতে শেখ হাসিনা বিরক্ত হন। এরপর আমার সরকারি চাকরিজীবী আত্মীয়স্বজনদের দিকে নানা ধরনের হুমকি আসতে থাকে।

বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিচক্ষণতার প্রশংসা করে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, মোড় ঘুরে যায় ৩ আগস্ট বেলা দেড়টায় যখন জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রাঙ্গণে জুনিয়র অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, কেননা নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশে তারা বিক্ষুব্ধ ছিলেন।

তাদের অসন্তোষ অনুভব করে জেনারেল ওয়াকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে তাদের পক্ষে দাঁড়ান। তারপরে যদিও বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় গুলির ঘটনা ঘটে, যেমন যাত্রাবাড়ীতে। অন্যত্র গুলির মাত্রা অনেকটাই কমে আসে।

ক্ষমতাসীন দলের ভীত কীভাবে নড়ে গেলো, সে বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। রাওয়াতে তাদের ব্রিফিংটি শেখ পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশ থেকে পালিয়ে যাবার একদিন আগেও শেখ হাসিনা অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেলকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সহিংসতার নানা ছবি পাঠান এবং ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

তিনি পোস্টে লিখেন, ৪ আগস্ট থেকেই শেখ হাসিনা আমাকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সহিংসতার নানা ছবি পাঠাতে শুরু করেন এবং ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। আমি ফোনে সাড়া দেইনি। ৭ আগস্টের পর ছবি পাঠানো বন্ধ করেন তিনি। শুধু ২৭ অক্টোবর শেষবারের মতো একটি ভিডিও পাঠান।

শেষ মুহূর্তে আরও একটি মরিয়া চেষ্টা করেন শেখ হাসিনা বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। পোস্টে জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া লেখেন, ৪ আগস্ট রাতে (প্রায় ১১ টায়) গণভবনে সব নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের ডেকে শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন, বিক্ষোভকারীদের যে কোনো মূল্যে দমাতে হবে।

এজন্য একটি বিশদ পরিকল্পনা করা হয়। বিজিবি, র‍‍্যাব ও পুলিশকে ঢাকার ১৩টি প্রবেশপথ আটকে দিতে বলা হয় এবং সেনাবাহিনীকে শহরের প্রধান এলাকাগুলো দখলে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

সেনাপ্রধান বুদ্ধিমত্তার সাথে এমনভাবে সেনা মোতায়েন করেন, যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কম থাকে। তিনি জানতেন যে বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই গুলি চালাতে নারাজ।

তিনি আরও লেখেন, ৫ আগস্ট অসংখ্য মানুষ ঢাকায় ঢুকতে শুরু করলে, বাইরের দিকে অবস্থান নেয়া বিজিবি, র‍‍্যাব ও পুলিশ বাধা না দিয়ে তাদের পথ ছেড়ে দেয়। শহরের ভেতরে থাকা সেনা ইউনিটগুলোও জনতার সাথে মিশে গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে। গণভবন দখল হয়, আর শেখ হাসিনা তড়িঘড়ি করে দেশ ছাড়েন।

কয়েক মুহূর্তের জন্য জনতাকে থামিয়ে রাখা হয়, যাতে তিনি নিরাপদে হেলিকপ্টারে নিরাপদে দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।