নাটোরের গুরুদাসপুরে সৎ ভাইয়ের সম্পত্তি ভোগদখলের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের পিপলা গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম ওরফে জামরুল ও তাঁর ভাই জাহিদুল ইসলামকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তাঁরা এসব অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম ওরফে জামরুল এবং জাহিদুল ইসলাম তাঁদের বাবার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান। অন্যদিকে নুরুল ইসলাম ও রুহুল আমিন প্রথম পক্ষের সন্তান। তাঁদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা করা হলেও নুরুল ইসলাম সেই সিদ্ধান্ত না মানায় নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, নুরুল ইসলামের মেয়ের জামাতা সেনাবাহিনীতে চাকরি করার সুবাদে জামরুল ও জাহিদুলকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে জামরুলকে মারধর করানো হয়। পরে তাঁকে সিংড়া সেনাক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
জামরুল বলেন, ‘নুরুল ইসলাম আমার বড় মায়ের ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর আইন অনুযায়ী সবার মধ্যে জমি ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে। নুরুল তাঁর প্রাপ্য সম্পত্তি আপন ছোট ভাই রুহুল আমিনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পিপলা মৌজায় তাঁর আর কোনো জমিজমা নেই। তিনি এখন ঝাউপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে বসবাস করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিনা কারণে আমাকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মারধর করানো হয়েছিল। এখন আবার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে আমার মানহানি করা হচ্ছে।’
জামরুল বলেন, ‘আইনের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।