প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্ট এবং রুমিন ফারহানার পোস্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের ‘একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি’ রুমিন ফারহানা। এমনকি তার এই ‘পারফরম্যান্স’ দেখে শেখ হাসিনা তাকে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রীর দায়িত্বও দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্য তার অতীতের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার দাবি, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আগে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রুমিন যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, এখন একই ধরনের বক্তব্য বিএনপির বিরুদ্ধেই দিচ্ছেন।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে জামায়াতের আমির উৎসাহ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের সময় জামায়াতের ৯০ জন সংসদ সদস্যের হট্টগোলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নিজেরা যে সংস্কৃতির সূচনা করেছেন, সেই সংস্কৃতির বিরোধিতা করা বেমানান।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ মূলত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ওই সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
রাশেদ খানের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ‘আওয়ামী বয়ানের পক্ষে’ এক হয়েছেন।
পোস্টের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচনের আগের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, সে সময় রুমিন ফারহানা হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।