বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ৬৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্র মুবিন খান গৌরবের বিরুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মাহাদি বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বলে তারা মনে করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তের ছাত্রত্ব বাতিলসহ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। এ বিষয়ে তারা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি জানার পর হাউস টিউটরদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়ে একটি মুচলেকা দিয়েছে। পরে সে হলের বাইরে চলে যায়।
বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।