দেশে গড়ে ওঠা ‘মব সংস্কৃতি’ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে সংযোজনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবপ্রতিষ্ঠিত ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (SSSDW) উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত এই ড্রোন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এসএসএসডিডব্লিউয়ের ফলক উন্মোচন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট ও চিফ ইন্সট্রাক্টর কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন নবপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সুবিধা ও ড্রোনের আভিযানিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির প্রশিক্ষিত পাইলটদের অংশগ্রহণে ড্রোনের অপারেশনাল সক্ষমতার বাস্তব মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত টহল, চোরাচালানবিরোধী অভিযান, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
মহড়ায় ড্রোনের রিয়েল-টাইম নজরদারি, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মাধ্যমে অননুমোদিত ড্রোন প্রতিহত ও নিয়ন্ত্রণ এবং বিজিবিতে যুক্ত অত্যাধুনিক ‘ম্যাভিক ড্রোন’-এর ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করা হয়।
মহড়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা দলবদ্ধভাবে বিচার করার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার কঠোর হাতে এ ধরনের ‘মব সংস্কৃতি’ দমন করবে।
তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ড্রোন সংযোজন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মালখানা ও হাজতখানার সংখ্যা বাড়ানো এবং বিজিবিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের আওতায় আনার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার, সিলেট অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এক দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার দুপুরে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজিবির অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।