বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে জনগণকে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই পূরণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ অন্তত ২৯টি ক্ষেত্রে সরকার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটিই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেয়। সে সময় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়, যার প্রভাব পড়ে গণপরিবহন, সেচ ও সারসহ বিভিন্ন খাতে।
গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না এবং গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ক্রয়াদেশও অন্য দেশে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সংকট দেখা দিলেই সরকার কখনো ফ্যাসিস্ট সরকার, আবার কখনো অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অথচ আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
কৃষি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকরা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না এবং বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, হাম মহামারির জন্য সরকার অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করছে। কিন্তু বর্তমানেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তোলা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার অভিযোগ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখলদারিত্বের ঘটনা ঘটছে। বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় কার্যকর বিচার হয়নি।