নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনা পৌর শহরের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আকাশ (২৮) নামের এক ওয়ালটন শোরুমের কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি দুই বছর ধরে শহরের বনুয়াপাড়া ওয়ালটন শোরুমে করছেন। তবে পুলিশ ধারণা বিদ্যুৎ স্পর্শে রাতে যে কোন সময় মারা গিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের কুরপাড় পুলিশ লাইন এর দক্ষিণ গেটের পাশের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আকাশ জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের দেশীউড়া গ্রামের মৃত সোহরাব মিয়ার ছেলে।
নিহতের সহকর্মী ও ভাড়াটিয়া ভাষা এলাকার সূত্রে জানা গেছে, আকাশ আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের দেশীউড়া গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তার বাবা-মা উভয় মারা গেছেন। দুই বছর ধরে শহরের বনুয়াপাড়া ওয়ালটন শোরুমে বিক্রয় কর্মী হিসেবে চাকরি করছেন।
এরমধ্যে দেড় বছর ধরে তিনি শহরের কুরপাড় পুলিশ লাইন প্রথম গেট এলাকার সেনা সদস্য মাহবুব আলম মহন নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন। বাসার মালিকের শ্বশুর বুধবার মারা যাওয়া তারাও বাসায় ছিলেন না। বুধবার রাতে শোরুম থেকে বাসায় ফেরেন আকাশ। এর মধ্যে রাতে যে কোন সময় বিদ্যুৎ স্পর্শে ফ্লোরে পড়ে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে শোরুমে না যাওয়ায় সাব্বির নামে তার এক সহকর্মী দুপুর পর্যন্ত তার মোবাইল নাম্বারে কল করেন। ফোন রিসিভ না করায় দুপুর ২টার দিকে তার বাসায় আসেন। ভেতর থেকে দরজা আটকানো থাকায় তাকে ডাকাডাকি করা হলে কোন সারা পাওয়া যায়নি।
পরে সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে গলায় বিদ্যুতের তার পেছানো অবস্থায় ফ্লোরে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন।
বাসার মালিক মাহাবুব আলম মহন জানান, তার শশুর সিলেট হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। তার মরদেহ নিয়ে নেত্রকোনার বাড়িতে নিয়ে আসতেছেন। আকাশ তার পাশের গ্রামের পরিচিত। সে খুবই ভালো এবং মেধাবী একটি ছেলে।
সে বিসিএস এর ভাইভা পরীক্ষাও দিয়েছে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। সে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তার বাসায় থাকে তার আত্মহত্যা করার কথা না। যতটুকু শুনেছি ছেলেটি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারে।
নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, শহরের কুরপাড় ভাড়া বাসা থেকে আকাশ নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।