মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ ধরনের অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিরই সুবিধা করে দেবে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি বাংলাদেশের সব মানুষের। অযৌক্তিকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের শক্তিশালী করবে। তারা জাতির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদকেই সহায়তা করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব শক্তিকে সেই চেতনায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিএনপির ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দলটি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতি করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি সংকটাপন্ন অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। বাজেট পাসের পর উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ড্যাব টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।