বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) […]

স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮

বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

*জুলাই আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণভাবে জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে।

এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকার তাদের পাশে আছে। আহতদের চিকিৎসা ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে। রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সর্বপ্রথম রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফায় রূপ নেয়। বিগত নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও আমাদের এই ৩১ দফার প্রতি ম্যান্ডেট দিয়েছে। কাজেই এই দফা এখন আর শুধু দলের নয়, এটি জনগণের দফায় পরিণত হয়েছে।

*ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারে এসে আমরা দেখলাম অতীতে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ডিজাস্টারাস শিক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি বিভাজিত সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন পেয়েছি। বিগত স্বৈরাচার জ্বালানি খাতকে তাদের পকেট ভারী করার খাত হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা কাজ করছি। মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস কোম্পানির সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ কথা হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই তারা আমাদের এলএনজি সরবরাহ করার চেষ্টা করবে। এটি হলে আমরা ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডলাইনে যুক্ত করতে পারবো।

পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে গত ১৭ বছর ধরে বাপেক্সকে বসিয়ে রাখার সমালোচনা করে তিনি জানান, বাপেক্সের জন্য দ্রুত দুটি রিগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দেশের ভেতরের খনিগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যায়।

*বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি

বেকারত্ব দূরীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক। মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যেখানে ১৮ মাসের মধ্যে কারখানা চালু করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোরিয়ান বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যার পাড়ে বন্ধ হয়ে থাকা মিল-কারখানার জায়গায় কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি করার জায়গা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে বিটিএমসি ও বিএসইসি’র বন্ধ থাকা প্রায় ৫০টি মিল-কারখানা ব্যক্তিখাতের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ চালু করার কথাও জানান তিনি।

*স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা

সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোর বেড সংখ্যা নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঝখানে বহু বছর কোনো কাজ হয়নি। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলার ৫১ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

তিনি একটি হতাশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৫৬ বছরেও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা হয়নি। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মেডিকেল কলেজ থাকা জেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০ বেড এবং সাধারণ জেলা হাসপাতালগুলোতে ১০ বেডের ডায়ালিসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত ১০ বেডের ডায়ালিসিস সেন্টার চালু হবে। এ ছাড়া বর্তমান জনবান্ধব বাজেটে হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের লেন্স ও ডায়ালিসিস সামগ্রীর ওপর কর প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

*মাদকমুক্ত সমাজ ও তরুণদের উন্নয়ন

তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট ও স্পোর্টস প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের শারীরিক ও মানসিক এনার্জি সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে হবে। আইটিখাতে তরুণদের উৎসাহিত করতে প্রযুক্তি পণ্যের ওপর ট্যাক্স শূন্য করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু গালভরা কথা শুনতে বা বলতে চাই না। আমরা কাজ ডেলিভার করতে চাই। দেশ ও জনগণকে আমরা কি দিতে পারলাম, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ। যারা ষড়যন্ত্র করতে চান, ঠান্ডা মাথায় তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা আমাদের ৩১ দফার বাস্তবায়ন করবো।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।