আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক মামলা পর্যালোচনার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। পরে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সরাসরি কোনো মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলার আপিল বিচারাধীন থাকলে আগে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। তবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই; তারা কেবল আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাইতে পারবেন।