মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভাঙনের ভয়, বিচ্ছিন্ন জীবন—স্থায়ী সমাধান চায় চরাঞ্চলের মানুষ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি  মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ,পঁচিশ বছর পর থেকে এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি—দিঘীরপাড়ে একটি সেতু নির্মাণ, চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এসব দাবি […]

ভাঙনের ভয়, বিচ্ছিন্ন জীবন—স্থায়ী সমাধান চায় চরাঞ্চলের মানুষ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৫

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ,পঁচিশ বছর পর থেকে এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি—দিঘীরপাড়ে একটি সেতু নির্মাণ, চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পাকাকরণ।

কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

দিঘীরপাড়ের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে মুন্সিগঞ্জের চরবাংলাবাজার এবং শরীয়তপুর জেলার শিলই, নওপাড়া, চরআত্রা, কাঁচিকাটা, কুন্ডেরচর, কোরবি, মনিরাবাজ, চাঁদপুর জেলার চরাঞ্চলের একাংশ এবং কুমিল্লা জেলার চরাঞ্চলের একাংশ।

স্থানীয়দের মতে, এসব এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। একটি সেতু, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও পাকা রাস্তা নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের কষ্টই কমবে না, বরং শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

৭ জুন ২০২৬ মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙনের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখেন।

১১ জুন ২০২৬ উন্নয়নের বৈষম্যের অবসান এবং চার দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী, যুব সমাজ ও আলেম সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, “সেতু ও পাকা রাস্তার অভাবে আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো খুবই কঠিন। অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াতের কষ্টে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। উন্নয়নের অভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও পিছিয়ে পড়ছে।”

কৃষক আব্বাস খালাসী বলেন, “আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে নদী পার হতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ হয়, সময় নষ্ট হয়, অনেক সময় পণ্য নষ্টও হয়ে যায়। একটি সেতু ও পাকা রাস্তা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

যুব সমাজের একজন প্রতিনিধি আক্তার গাজী বলেন, “প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে ভাঙন রোধ হবে। আমরা আর শুধু আশ্বাস চাই না, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”

২১ জুন ২০২৬ যুব সমাজ ও আলেম সমাজের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়। এতে সেতু নির্মাণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ এবং পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবি তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

৪ জুলাই ২০২৬ মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল সালাম আজাদ এমপি দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় যুব সমাজ ও আলেম সমাজ তাঁর হাতে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর তুলে দেন। তিনি এলাকাবাসীর দাবিগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এমপি -ও নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন।

স্থানীয়দের দাবি, এই অঞ্চলে পাকা রাস্তা ও সেতুর অভাবে শিক্ষার হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। শিক্ষার্থীদের অনেক দূর নৌপথে যাতায়াত করতে হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও সময়ের কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ফলে উন্নয়নের অভাবে এই চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিঘীরপাড় ও আশপাশের চরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা হবে। এখন তাদের একটাই প্রশ্ন—বারবার আশ্বাস নয়, কবে বাস্তবে নির্মিত হবে দিঘীরপাড়ের সেতু, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক? লক্ষাধিক মানুষ এখন সেই উত্তর ও বাস্তব পদক্ষেপের অপেক্ষায়।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।