আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালের সব কর্মকাণ্ডও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। তাই দুর্নীতির যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের সময়েও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদনের বিস্তারিত তার কাছে না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৮ মাসে কোথায়, কীভাবে এবং কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে ‘লুটেরা অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ গড়ে ওঠে। এ সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ এবং মেগা প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি এবারের বাজেটকে ‘বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জনকল্যাণকেন্দ্রিক বাজেট। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।