নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি সড়কের পাশে থাকা অন্তত ১০টি গাছ কেটে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার চাঁচকৈড়–বিলদহ (সিংড়া) সড়কের দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আবু সাইদ (৩৫)।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, গত শুক্রবার সড়কের পাশে থাকা চারটি তালগাছ, দুটি শিমুলগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১০টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। রোববার পর্যন্ত এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
আজ রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পশ্চিম পাশে কাটা গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা পড়ে আছে। একই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় কাটা গাছের অংশ সরিয়ে নেওয়াও দেখা যায়।
কথা হলে আবু সাইদ বলেন, তাঁর পুকুরসংলগ্ন সড়কের পাশে গাছগুলো ছিল। দোকান নির্মাণের প্রয়োজনেই সেগুলো কাটা হয়েছে। এ জন্য বন বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। পরে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ২০০০ সালের দিকে বন বিভাগ ও সুবিধাভোগীদের যৌথ উদ্যোগে চাঁচকৈড়–বিলদহ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষে বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি এবং সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগের সুবিধাভোগী দিল মোহাম্মদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কে বন বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। গাছ বিক্রির অর্থের ৫৩ শতাংশ সুবিধাভোগীরা পাওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে কিছু ব্যক্তি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া বন, সড়ক বা সরকারি জায়গার গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।