সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
গ্রামের সাধারণ এক মুদি দোকান, কিন্তু তার বারান্দায় চোখ পড়লেই মনটা ভরে ওঠে দেশপ্রেমে। শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত ফজর আলী সরকারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক সরকার তার মুদি দোকানের বারান্দার খুঁটিগুলো সাজিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙে, যা এখন এলাকায় আলোচনার বিষয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালপুর গ্রামের রাস্তা ঘেঁষে একটি বিশাল বটগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে আব্দুর রাজ্জাকের সাধারণ টিনের চালার দোকানটি। প্রথম দেখায় এটি দেশের অন্য দশটি গ্রামীণ দোকানের মতো মনে হলেও, এর বারান্দার খুঁটিগুলো মুহূর্তেই সবার নজর কাড়ে। দোকানের তিনটি টিনের ঝাঁপ এবং সামনের চারটি খুঁটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে লাল এবং সবুজ রঙে রাঙানো হয়েছে, যা দেশের প্রতি এক অনন্য ভালোবাসার প্রতীক।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রাজ্জাক অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। তিনি দেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তার দোকানের এই রূপান্তর করেছেন। বিশেষ করে বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবগুলোতে এই লাল-সবুজ বারান্দা গ্রামবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই এখন এই দোকানটিকে ‘লাল-সবুজ দোকান’ নামেই ডাকেন।
দোকানের ওপরের টিনের চালাটি অনেক পুরোনো হলেও, সামনের লাল-সবুজ রঙ করা বারান্দাটি উজ্জ্বল ও পরিষ্কার। দোকানের সামনে একটি ছোট সেতু রয়েছে, যা পার হয়ে গ্রামের মানুষ এই দোকানে কেনাকাটা করতে আসে। দোকানের দেয়ালে কয়েকটি বিজ্ঞাপনের পোস্টারও সাঁটানো আছে। দোকানের বাঁ দিকে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছেন, এবং পেছনে দেখা যাচ্ছে বিশাল একটি বটগাছের ডালপালা ও সবুজ পাতা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারিনি, কিন্তু দেশের জন্য ভালোবাসা আমার মনের ভেতর সব সময়ই ছিল। তাই ভাবলাম, আমার দোকানের বারান্দায় আমাদের পতাকার রঙ দিলে কেমন হয়। যখনই আমি এই লাল-সবুজ রঙ দেখি, আমার মনে হয় আমি সবসময় দেশের পতাকার নিচেই আছি। মানুষও এটা দেখে খুশি হয়, এটাই আমার আনন্দ।”
গ্রামের অনেক তরুণ ও শিশুরা এই দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। তারা বলে, আব্দুর রাজ্জাক চাচার এই উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। একজন সাধারণ মানুষের এমন দেশপ্রেম সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোঃ তবিবুর রহমান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, “এটি একটি ছোট্ট উদ্যোগ, কিন্তু এর বার্তা অনেক বড়। এটি দেখায় যে দেশপ্রেম কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী বা পেশার মানুষের একচেটিয়া নয়, একজন সাধারণ মুদি দোকানিও তার মতো করে দেশকে ভালোবাসতে পারেন।”