রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা আইনি দিক ও স্বজনদের সম্মতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক জাহিদ রায়হান। তবে চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা নয়, বরং কোনো ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আসলে এত ছোট্ট বাচ্চাদের ময়নাতদন্তের বিষয়টি মানবিক দিক থেকে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আইনগত বিষয় হলো ময়নাতদন্ত করা উচিত। মৃত্যুর নির্ধারিত কারণ বের করতে ময়নাতদন্ত করা দরকার। এটা আইনি বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোগীর স্বজনদের জিজ্ঞাসা করবেন। ময়নাতদন্তের বিষয়টি তাদের সম্মতির ওপরও নির্ভর করছে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। সবাই মিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এডিজি বলেন, ‘আমাকে মৃত শিশু দেখিয়ে একজন বাবা জিজ্ঞেস করছেন—এই বাচ্চার ছোট্ট শরীরের কোথায় কাটাছেঁড়া (ময়নাতদন্ত) করবেন? আমি কিন্তু তাকে কোনো জবাব দিতে পারিনি।’
একই সময়ে পরপর ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, ‘পরপর ছয়জন বাচ্চা একই সঙ্গে মারা যাবে—এটা চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা বলে আমাদের মনে হয় না। এখানে কোনো একটা টেকনিক্যাল ফল্ট বা কারিগরি ত্রুটির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগায় হাসপাতালের এসি এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রথম একটি বাচ্চা কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নার্স তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে এনআইসিইউতে (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নিয়ে যান। সেখানে ১৫-২০ মিনিট পর বাচ্চাটির অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আবার সাধারণ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টা বা পৌনে ৫টা।
এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নার্স খেয়াল করেন একটি বাচ্চা মারা গেছে। তাকে দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এর পরপরই বাকি বাচ্চাগুলোর অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। পরবর্তীতে সব কটি বাচ্চাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা, যারা এসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক ইকুইপমেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে অভিজ্ঞ, তারা ওই রুমটি বন্ধ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত চালাচ্ছেন।
জাহিদ রায়হান বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টটি আমাদের কাছে এলে আমরা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসতে পারব। আমরা অলরেডি একটিভ তদন্তে আছি। এটি শেষ হলে আসল কারণ আপনাদের জানাতে পারব।’
ময়নাতদন্তের আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে এডিজি বলেন, পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী রোগীর স্বজনদের ময়নাতদন্তের প্রস্তাব দেবে। ময়নাতদন্ত হলে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সহজ হয়। তবে মৃত শিশুদের অনেক অভিভাবকই জানিয়েছেন তারা এই ছোট বাচ্চাদের পোস্টমর্টেম করাতে ইচ্ছুক নন।