বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ছোট্ট শরীরে কোথায় কাটবেন, মৃত শিশুর বাবার প্রশ্নে জবাব দিতে পারিনি : স্বাস্থ্যের এডিজি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা আইনি দিক ও স্বজনদের সম্মতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক জাহিদ রায়হান। তবে চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা নয়, বরং কোনো ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা […]

নিউজ ডেস্ক

২৮ মে ২০২৬, ০০:০২

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা আইনি দিক ও স্বজনদের সম্মতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক জাহিদ রায়হান। তবে চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা নয়, বরং কোনো ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আসলে এত ছোট্ট বাচ্চাদের ময়নাতদন্তের বিষয়টি মানবিক দিক থেকে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আইনগত বিষয় হলো ময়নাতদন্ত করা উচিত। মৃত্যুর নির্ধারিত কারণ বের করতে ময়নাতদন্ত করা দরকার। এটা আইনি বিষয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোগীর স্বজনদের জিজ্ঞাসা করবেন। ময়নাতদন্তের বিষয়টি তাদের সম্মতির ওপরও নির্ভর করছে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। সবাই মিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পরিদর্শনকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এডিজি বলেন, ‘আমাকে মৃত শিশু দেখিয়ে একজন বাবা জিজ্ঞেস করছেন—এই বাচ্চার ছোট্ট শরীরের কোথায় কাটাছেঁড়া (ময়নাতদন্ত) করবেন? আমি কিন্তু তাকে কোনো জবাব দিতে পারিনি।’

একই সময়ে পরপর ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, ‘পরপর ছয়জন বাচ্চা একই সঙ্গে মারা যাবে—এটা চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতা বলে আমাদের মনে হয় না। এখানে কোনো একটা টেকনিক্যাল ফল্ট বা কারিগরি ত্রুটির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগায় হাসপাতালের এসি এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রথম একটি বাচ্চা কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নার্স তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে এনআইসিইউতে (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নিয়ে যান। সেখানে ১৫-২০ মিনিট পর বাচ্চাটির অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আবার সাধারণ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টা বা পৌনে ৫টা।

এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নার্স খেয়াল করেন একটি বাচ্চা মারা গেছে। তাকে দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এর পরপরই বাকি বাচ্চাগুলোর অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। পরবর্তীতে সব কটি বাচ্চাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা, যারা এসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক ইকুইপমেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে অভিজ্ঞ, তারা ওই রুমটি বন্ধ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত চালাচ্ছেন।

জাহিদ রায়হান বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টটি আমাদের কাছে এলে আমরা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসতে পারব। আমরা অলরেডি একটিভ তদন্তে আছি। এটি শেষ হলে আসল কারণ আপনাদের জানাতে পারব।’

ময়নাতদন্তের আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে এডিজি বলেন, পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী রোগীর স্বজনদের ময়নাতদন্তের প্রস্তাব দেবে। ময়নাতদন্ত হলে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সহজ হয়। তবে মৃত শিশুদের অনেক অভিভাবকই জানিয়েছেন তারা এই ছোট বাচ্চাদের পোস্টমর্টেম করাতে ইচ্ছুক নন।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।