সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মহিপুরে দন্ত চিকিৎসার আড়ালে ‘মৃত্যুফাঁদ’: স্বাস্থ্যসেবার ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ

কলাপাড়া,পটুয়াখালী প্রতিনিধি: প্রান্তিক জনপদে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ছোঁয়া পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ।  পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর মৃত্যুসহ একাধিক ভুক্তভোগীর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামের এই অপচিকিৎসালয় দীর্ঘদিন ধরে […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ০১:২৩

কলাপাড়া,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

প্রান্তিক জনপদে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ছোঁয়া পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ। 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর মৃত্যুসহ একাধিক ভুক্তভোগীর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামের এই অপচিকিৎসালয় দীর্ঘদিন ধরে অপেশাদার ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত দন্ত চিকিৎসক ডা. হারুন এর বিরুদ্ধে অতীতে ভুয়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে কারাভোগের তথ্য রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেল থেকে বের হয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এছাড়া তার ভাই আব্দুল হাকিম কলাপাড়ায় দন্ত চিকিৎসক এবং মহিপুরে নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে— ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এই ভূয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞই হাতুড়ি-বাটাল নিয়ে রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা করান, যা আইনি ও নৈতিকভাবে গুরুতর অপরাধ।

সরেজমিনে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য:

জনৈক এক ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে দাঁতে মারাত্মক ইনফেকশন হয়ে পচন ধরে, পরে অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে ওই রোগী মৃত্যুবরণ করেন। একই অভিযোগ করেন কুয়াকাটার আরেক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, ওই ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর দাঁতে ইনফেকশন হয়। পরে তিনি উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়।

এক ভুক্তভোগী জানান, ব্যথানাশক ইনজেকশন ছাড়াই বাটাল দিয়ে তার সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দন্ত চিকিৎসকের বদলে তার দাঁত তুলেছেন ভূয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দেওয়া আঃ হাকিম, যা ছিল অত্যন্ত অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এনিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরেকজন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়া অধিকাংশ মানুষই পরবর্তীতে জটিলতায় ভুগছেন। এমনকি এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত চিকিৎসককে মারধরও করেন।

এক নারী ভুক্তভোগীর বাবা জানান, একটি দাঁত তোলার কথা থাকলেও তার মেয়ের তিনটি দাঁত তুলে ফেলা হয়—যা মেয়েটিকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ফেলেছে।

আরেকজন জানান, একটি দাঁতে ক্যাপ বসানোর কথা থাকলেও দুটি দাঁতে ক্যাপ বসানো হয়, যার ফলে তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন এবং রাতে ঘুমাতে পারছেন না।

এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, স্বাস্থ্যখাতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকারিতা কোথায়?

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা​ দ্রুত এই অপ-চিকিৎসকদের গ্রেফতার দাবি করে বলেন, একজন ভুয়া ডাক্তারের কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হবে, আর আইন প্রশাসন নীরব থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। 

এমন লোমহর্ষক ঘটনার পরও বীরদর্পে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এই চক্র। স্বল্পমূল্যের চিকিৎসার আশায় নিম্নআয়ের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হলেও স্থায়ীভাবে শারীরিক সক্ষমতা হারাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ক্ষতি, অন্যদিকে আইন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে যথাযথ তদন্ত চালাতে হবে, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুদেবার্তা (হোয়াটসঅ্যাপ) পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

​কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারব।

​পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “বিষয়টি আমি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”

মহিপুরের এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়—এটি প্রান্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটের এক বাস্তব চিত্র। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপচিকিৎসা আরও বিস্তৃত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।