সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুরে মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়ছে নারীরা

মজনুর রহমান , মেহেরপুরঃ মেহেরপুরে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিক রেখে চলেছে নারীরা। তবে সমাজের নারীদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে মাদক পাচারে। মাদক পাচারের সাথে সাথে নিজেরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনে। তারা হরেক কিছিমের মাদক পাচার ও সেবনে জড়িয়ে যাচ্ছে। একের পর এক মামলা হলেও মাদক পাচার ও সেবন থেকে কোন মতেই ফেরানো সম্ভব হচ্ছে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৮

মজনুর রহমান , মেহেরপুরঃ

মেহেরপুরে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিক রেখে চলেছে নারীরা। তবে সমাজের নারীদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে মাদক পাচারে। মাদক পাচারের সাথে সাথে নিজেরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনে। তারা হরেক কিছিমের মাদক পাচার ও সেবনে জড়িয়ে যাচ্ছে। একের পর এক মামলা হলেও মাদক পাচার ও সেবন থেকে কোন মতেই ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। পুরুষরা প্রশাসনের টার্গেটে থাকলেও নারীরা সহজে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিতে পারে। এজেন্য মাদক পাচারে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়েছে। 

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন এবং আদালতের নথিতে দেখা গেছে, গত এক বছরে জেলায় অন্তত তিন ডজন নারী মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। আদালতৈ মামলা চালানোর খরচ ও সাংসারিক প্রয়োজনে তারা আবারো মাদক পাচারের পথে পা বাড়াচ্ছে।

প্রশাসনের ভাষ্য, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং গড়ে উঠছে সুসংগঠিত একটি মাদক সরবরাহ চক্র, যেখানে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে তুলনামূলক নিরাপদ বাহক হিসেবে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ সদস্য গ্রেপ্তার বা পলাতক হওয়ার পর ব্যবসার দায়িত্ব নিচ্ছেন স্ত্রী, মা কিংবা বোনেরা। ফলে মাদক কারবার এখন পরিবারভিত্তিক রূপ নিচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা পুলিশ, ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বেশি উদ্ধার হলেও ২০২৬ সালে হেরোইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে মেহেরপুরে মাদক এখন আর শুধু অপরাধ নয়; এটি একটি গভীর সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন চালান ঢুকছে, আর সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় নারীদের যুক্ত করে গড়ে উঠছে নতুন নেটওয়ার্ক।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনের বড় চালান সীমান্তপথে মেহেরপুর ও গাংনীতে প্রবেশ করে। প্রথমে এসব মাদক সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে মজুত রাখা হয়, পরে সেখান থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিবহন ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গৃহস্থালির জিনিসপত্র বা পারিবারিক চলাচলের আড়ালে সহজে মাদক পরিবহন সম্ভব হওয়ায় চক্রগুলো এই কৌশল বেছে নিচ্ছে।

বর্তমানে মেহেরপুরের আদালতে প্রায় ৪ হাজার ২০০টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে নারী আসামির সংখ্যা দুই শতাধিক। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনের বড় চালান। গাংনী উপজেলার এক ঘটনায় হেলেনা আক্তারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেড়শ বোতল ফেনসিডিল সাম্প্রতিক সময়ের বড় চালানগুলোর একটি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গাংনী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রমজান আলী জানান, নারীদের মাদক পাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং গভীর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দারিদ্র্য, দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন এবং সীমান্ত এলাকার দীর্ঘদিনের চোরাচালান সংস্কৃতি মিলিয়ে নারীরা এই পথে জড়িয়ে পড়ছেন। আর্থিক আকর্ষণ ও সামাজিক পরিবর্তন তাদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারি জানান, গত ২০২৫ সালে ৩১ জন নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতাদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। নারী সদস্যের অভাবে অনেক সময় অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে দপ্তরে নারী সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান জানান, মাদক ব্যবসা নারী-পুরুষ কারও জন্যই সহনীয় নয়। সম্প্রতি কিছু নারী সরাসরি মাদক পরিবহন ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন, যা উদ্বেগজনক। জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে মূল হোতারা আড়ালে থেকে পরিবারের নারী সদস্যদের ব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ দ্রুত অর্থের লোভে নিজেরাই এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছেন। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।