সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
একটি তুচ্ছ ‘না’ যে মানুষের জীবন পাল্টে দেওয়ার বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দারুগ্রামের ফজলুর রহমান। এক যুগ আগে খাওয়ার জন্য প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। প্রতিবেশী হাঁস বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ আর ক্ষোভকে ইতিবাচক জেদে রূপান্তর করে আজ তিনি সফল এক খামারি। মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা খামার থেকে বর্তমানে তাঁর মাসে নিট আয় হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকায় ঢুকতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। সীমিত জমির একাংশে পুকুর এবং অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে আধাপাকা শেড। এই ২৪ শতক জায়গাতেই বর্তমানে পালিত হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার হাঁস।
খামার পরিচালনা সম্পর্কে ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও প্রস্তুতকৃত ফিড খাইয়ে পরিচর্যা করেন। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর আশেপাশের জমি ফাঁকা থাকলে সেখানে হাঁস ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে খাদ্য খরচ অনেকাংশে কমে যায়।
খামারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে প্রায় দেড় হাজার ডিম পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকায়। সে হিসাবে মাসে মোট লেনদেন হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। খাদ্য ও পরিচালনা খরচ বাদ দিয়ে প্রতি ছয় মাসের একটি প্রজেক্ট শেষে তাঁর নিট মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা অর্থাৎ গড়ে মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকা।
এক সময়ের আর্থিক অনটনে থাকা ফজলুর রহমান আজ পুরোপুরি স্বাবলম্বী। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও ১২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিজেই এখন হাঁসের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাঁর এই দক্ষতা দেখে আশেপাশের খামারিরাও এখন পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে আসছেন।
নিজের এই সাফল্য সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সেদিন প্রতিবেশী যদি হাঁসটি বিক্রি করতেন, তবে হয়তো আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। সেই না-পাওয়ার রাগ থেকেই সিদ্ধান্ত নিই নিজে খামার করার। সঠিক পরিকল্পনা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আজ আমি স্বাবলম্বী।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নিয়ায কাযমীর রহমান জানান, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০টির মতো হাঁসের খামার রয়েছে। খামারিরা যেন রোগ-বালাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।