সিলেটকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ আগস্ট। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর নাইওরপুলস্থ ২৯/এ (ফরচুন গার্ডেন) ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় সিউকের কার্যক্রম ও সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
২৫ আগস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এছাড়া সিলেটের সংসদ সদস্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩’-এর আওতায় সিলেট ও এর সন্নিহিত এলাকায় পরিকল্পিত ও আধুনিক পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিউক গঠন করা হয়েছে। আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সুপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন এলাকায় টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা।
সরকার গত ১৯ জানুয়ারি এসআরও নং ২৩-আইন/২০২৬ জারির মাধ্যমে ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বরকে সিউক আইন কার্যকরের তারিখ হিসেবে ঘোষণা করে।
আইন অনুযায়ী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২১ সদস্যবিশিষ্ট হবে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। একজন নির্বাহী পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সিউকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভূমির সুষ্ঠু ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, আবাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নিম্নআয়ের মানুষ, বস্তিবাসী ও গৃহহীনদের আবাসন সমস্যা নিরসন, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ, বনায়ন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, উড়ালসেতু, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নালা-খাল-নর্দমার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকবে সিউকের।
প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, সিলেট মহানগরীর ৭৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার পাশাপাশি সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলা নিয়ে প্রায় ৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সিউকের অধিক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সিউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধিভুক্ত এলাকায় পাহাড়, টিলা, নদী-খালসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ইতোমধ্যে সিউকের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব, পদগুলোর যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
এছাড়া স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত বিসি কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬, বিএনবিসি ২০২০ ও সিউক আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির কাজ চলছে। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিত্যক্ত বা অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সিউকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, পর্যটন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোর সুরক্ষা, পর্যটন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং প্রবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
এছাড়া সিউকের স্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তর, দুটি জোনাল অফিস স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে সবুজায়ন, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিলেট-তামাবিল সড়ক সংলগ্ন আবাসিক এলাকা উন্নয়ন, বাদাঘাট এলাকার জেল রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও প্রেস কনফারেন্সে তুলে ধরা হয়।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে সিউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুণ্যভূমি সিলেটকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। এ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।