বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লাইসেন্স নবায়নে মোটা অংকের টাকা, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ঘুষ, অনিয়ম ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রভাব ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিভিল সার্জন […]

লাইসেন্স নবায়নে মোটা অংকের টাকা, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ঘুষ, অনিয়ম ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রভাব ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে অঘোষিত প্রভাব বিস্তার করে আসছেন তিনি। জেলা জুড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন কিংবা নতুন লাইসেন্স পেতে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও জেলার কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নিয়মিত নবায়ন করা নেই। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তি হলে লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন পড়ে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অভিযান শুরুর আগেই চুক্তিবদ্ধ মালিকদের সতর্ক করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।

সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১৯৮৮ সালের দিকে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগদান করেন মো. মিজানুর রহমান। ১৯৯৯ সালে তাকে ঢাকায় বদলি করা হলেও ২০০১ সালে আবার মুন্সিগঞ্জে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পিরোজপুরে বদলি করা হলেও তিনি হাইকোর্টে রিট করে সেখানে যোগদান না করে মুন্সিগঞ্জেই থেকে যান।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ঢাকা থেকে জারি করা এক স্মারকে তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ ছিল। অন্যথায় ৬ষ্ঠ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং মুন্সিগঞ্জেই কর্মরত থাকেন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সেক্টরে তার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন কর্মরত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের দুই অ্যাম্বুলেন্স চালক জসিম ও মনিরের বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বদলি করে। তবে পরে তারা হাইকোর্টে রিট করে আবারও একই পদে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।

আরেকটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান মিজানুর রহমান। দেশে ফেরার সময় অবৈধভাবে স্বর্ণ ও সৌদি রিয়াল আনার অভিযোগে সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে প্রায় দুই মাস সৌদি কারাগারে থাকার পর দেশে ফেরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন লাইসেন্স নবায়নের জন্য চেষ্টা করেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতেও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দারকে মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট সময় পর বদলির নিয়ম থাকলেও দীর্ঘ ৩৫ বছর একই কর্মস্থলে থাকা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর হবে এবং জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।