বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ, ফসলহানির শঙ্কায় আতঙ্কিত কৃষকরা

নূরুল আলম , নেত্রকোনা : নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলে মানুষের প্রধান আয়ের উৎস ধান উৎপাদন মাছ শিকার। তবে প্রধান উৎস ধান। এ থেকে আয়ের টাকায় পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ব্যয়বার সহ সকল খরচ নির্বাহ করা হয়। প্রায়ই আগাম বন্যায় এসব অঞ্চলে ফসলহানি ঘটতো। এ কারণে সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর মাধ্যমে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৩

নূরুল আলম , নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলে মানুষের প্রধান আয়ের উৎস ধান উৎপাদন মাছ শিকার। তবে প্রধান উৎস ধান। এ থেকে আয়ের টাকায় পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ব্যয়বার সহ সকল খরচ নির্বাহ করা হয়। প্রায়ই আগাম বন্যায় এসব অঞ্চলে ফসলহানি ঘটতো। এ কারণে সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর মাধ্যমে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করে থাকে।

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু ও শেষ হয় না। পাউবো’র দাবি হাওরের পানি নামতে বিলম্ব ও উপজেল স্কীম কমিটি পিআইসি কমিটি গঠনে দেরি করায় কাজ শুরু ও শেষ হতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তারা।

২৮ফেব্রুয়ারি শেষ দিনে পাউবো কাগজে কলমে ৬৫-৭০ ভাগ কাজ বাস্তবায়ন দেখালেও প্রকৃতপক্ষে স্থানীয়দের তথ্য মতে ৫৫-৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন পর্যায়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাঁধের কাজ শেষ হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে সুশিল সমাজ মনে করেন সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষার বাঁধ র্মিাণ কাজ শেষ হয়নি। হাওরে প্রয়োজন ছাড়াও ফসল রক্ষার নামে যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে হাওরের নাব্যতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য ভান্ডর। তাদের দাবি প্রয়োজনীয় বাঁধ ছাড়া অন্যগুলো যেন বাতিল করে হাওরের নাব্যতা ঠিক রাখা হয়।

নেত্রকোনা পাউবো ও কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার ৫টি উপজেলায় ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব এলাকায় ৩৬৫কিঃমিঃ অস্থায়ী ডুবন্ত বাঁধ রয়েছে। হাওরে এক সময় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণ করা হতো। ২০১৭ সালে হাওরে ব্যাপক ফসলহানির পর বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এরপর পাউবো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেন। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে ৫/৭ সদস্যের কমিটি (পিআইসি) গঠন করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারেন।

এবার জেলায় ১লাখ ৯৮হাজার ৮৮০হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হচ্ছে। আর বাঁধগুলোর আওতায় প্রায় ১লাখ ৩৪হাজার হেক্টর জমির রয়েছে। হাওরে ১৩৬দশমিক ৭৯৮কিঃমিঃ বাঁধ মেরামতের জন্য পাউবো ২০২টি পিআইসির মাধ্যমে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৩১কোটি টাকা ধরা হয়।

এরমধ্যে খালিয়াজুরিতে ১৪৩টি পিআইসির ৯১দশমিক ৩৪৪কিঃমিঃ বাঁধে ৬লাখ ২১হাজার ২৬০ঘনমিটার মাটি লাগবে। যার ব্যয় ২০কোটি ২৬লাখ ৬৭হাজার টাকা। মোহনগঞ্জে ২৯টি পিআইসির ১৬দশমিক ৫০৪কিঃমিঃ বাঁধে ১লাখ ২০হাজার ৩৩০ঘনমিটার মাটি লাগবে।

যার ব্যয় ৪কোটি ৫৯লাখ ৯১হাজার টাকা। মদনে ১৯টি পিআইসির ১২দশমিক ২৮৪কিঃমিঃ বাঁধে ১লাখ ৬২হাজার ৪৩৫ঘনমিটার মাটি লাগবে। যার ব্যয় ৩কোটি ৮৬লাখ ৩৪হাজার টাকা।

কলমাকান্দায় ১০টি পিআইসির ৭দশমিক ৪০২কিঃমিঃ বাঁধে ৩৬হাজার ৬৪৬ঘনমিটার মাটি লাগবে। যার ব্যয় ১কোটি ৫৩লাখ ৪০হাজার টাকা। বারহাট্রায় ১টি পিআইসির ০দশমিক ৩০০কিঃমিঃ বাঁধে ৬০১ঘনমিটার মাটি লাগবে।

যার ব্যয় ২৪লাখ ৯০হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার জন্য পিআইসি কমিটিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো বাধঁ গুলোর কাজ সম্পন্ন হয়নি।

সোমবার (২ মার্চ) সরেজমিনে মদন, খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ এলাকার প্রায় ৬৭টি প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে- এসব এলাকার হাওরের জগন্নাতপুর রাজঘাট বাঁধে কিছু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। পাশের আরেকটি বাঁধে অর্ধেক অংশে মাটি ফেলা হয়েছে। এটির কাজ চলমান রয়েছে। কীর্তনখোলা বাঁধের কয়েকটি পিআইসি অবস্থাও একই। তবে এখন পর্যন্ত কোন বাঁধেই কাজ শেষ হয়নি।

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বাঁধগুলোর কাজ রাজনৈতিক নেতারা করেন। এবছর নির্বাচন হওয়ায় কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। আবার নির্বচনী ফলাফল কি হয় এতে কোন প্রভাব পড়ে কিনা এর জন্যও অনেকে অপেক্ষা করেছেন। অকিাংশ বাঁধ নির্বচন শেষ হওয়ার পর শুরু করেছে।

আজ মার্চ মাসের ২তারিখ, বাঁেধর কাজ দুইদিন আগে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে পুরোপুরি শেষ হতে আরও একমাস সময় লাগবে। এরমধ্যে নদীতে জোয়ার এসেছে। পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন আমরা আতঙ্কে আছি। যেভাবে ঢিলেমিশি হচ্ছে আগাম বন্যা হলে ফসলহানির হতে পারে।

খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাতপুর গ্রামের শরীফ, আরিফুল ইসলাম, চাকুয়া শিবির এলাকার নূর আহমদ, লিপসিয়ার আজিজুল, রসুলপুর গ্রামের মুজিবুর, মদন উপজেলার কাতলা গ্রামের নূরুল হুদা, ঘাটুয়া এলাকার আবুল কালাম, গোবিন্দশ্রী গ্রামের সুজন,

মাজলু, মোহনগঞ্জ উপজেলার বেতাম গ্রামের মাসুদ, সুখদেবপুর গ্রামের হাসান সহ অনেকেই জানান, হাওরে এক ফসলী জমি। এ ফসলের আয় দিয়ে সারা বছরের পরিবারের জীবিকাসহ ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। যদি আগাম বন্যা হয় তাহলে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

খালিয়াজুরির জগন্নাতপুর রাজঘাট, রসূলপুর ও কীর্তনখোলা ফসররক্ষা বাঁধের পিআইসিগন বলেন, অন্য সাইটে ভেকু কাজ করতেছে। বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

খালিয়াজুরী খাবিটা স্কীমের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, খালিয়াজুরিতে ফসলরক্ষার বাঁধ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে শেষ হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত হোসেন বলেন, হাওর থেকে পানি নামতে দেরী হয়েছে। তারপরও অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজ অনেক দ্রুত হয়েছে। কয়েকটি বাঁধ ছাড়া অধিকাংশ বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে।

পাউবোর জেলা স্কীমের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল রহমান বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধে মাটি ফেলার কাজ প্রায় শেষ পর্যয়ে আছে। যে কয়টা বাকী আছে এগলো কাজ হচ্ছে। অন্যান্য কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ শেষ করতে বিলম্ব করে ওই পিআইসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।