হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের বাধায় শহরে প্রবেশ করতে পারেননি দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে বাহুবল উপজেলায় প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর তারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। এর প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই স্থানে কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদলও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার বিকেলে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হলে বাহুবলের কামাইছড়ায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এনসিপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাইলেও পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা করতেও অনুমতি দেয়নি।
পরে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতেই সদর থানার একটি মামলা দায়ের করেন তারা। মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী হয়েছেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয়। শুধু মামলা করতে হবিগঞ্জে যেতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁড়িতেই মামলা করতে বাধ্য হন তারা।
তবে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। এনসিপির নেতারা ওই আদেশ অমান্য করে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ বাহুবলে অবস্থান নেয়।
এদিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায়ও পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন এনসিপির নেতারা। পরে তারা ব্যারিকেড অতিক্রম করলেও হবিগঞ্জে প্রবেশের আগেই আবারও আটকা পড়েন।
হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ চলাকালে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং এনসিপির কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে ফেনীতেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ছাত্রশিবির, নেজামে ইসলাম, জমিয়তসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিলেটের সীমান্তবর্তী কয়েকটি উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসন।