শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য খবর

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির অভিনন্দন

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। এদিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)’র চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে তার বার্তায় ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৫

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে।

এদিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)’র চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে তার বার্তায় ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, ইউএলএ চেয়ারম্যান নাইং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আশা করি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে আপনি আমাদের সঙ্গে মিলে কাজ করে যাবেন। বিদ্যমান সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের এক নতুন পথ তৈরির সুযোগ এখন আমাদের সামনে এসেছে।’

এই বার্তাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি ও ইউএলএ কাজ করতে চায়।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি-উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুধবার সন্ধ্যায় বাসস’কে বলেন, ‘মিয়ানমার এবং আরাকান আর্মি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসা এই বার্তাগুলো এক নজিরবিহীন ঘটনা এবং এটি দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফল। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একটি দ্রুত, টেকসই এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গেও নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গারা সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে যাওয়ার অধিকারের বিষয়ে জোরালো দাবি জানিয়েছে।

গত বছরের আগস্টে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বহু-অংশীজন সংলাপে এবং ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও তারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মতামত গ্রহণ এবং নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

অন্যান্য খবর

জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষায় সরকার প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা আইনি […]

জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষায় সরকার প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট

২৩ জুন ২০২৬, ২১:০১

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা আইনি সুরক্ষা পেলেও রাজনৈতিক সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই আন্দোলন এবং এর অংশগ্রহণকারীদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনে সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। তার মতে, এই আইনি সুরক্ষা রাজনৈতিক সুরক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী সরকার টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে।

আইনমন্ত্রী জানান, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য অতিরিক্ত কোনো সুরক্ষা বা ব্যবস্থা প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

অন্যান্য খবর

এ-লেভেল ও-লেভেল পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁস, নেপথ্যে পাকিস্তান

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিঘাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিশ্ববিখ্যাত কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনও (সিআইই)। গত দুই মাসে তাদের ‘এ’ লেভেলের তিনটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশসহ এশীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে দুটি পরীক্ষা বাতিল করেছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৪ সালে একটি এবং ২০২৫ সালে চারটিসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ ছাড়া […]

এ-লেভেল ও-লেভেল পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁস, নেপথ্যে পাকিস্তান

এ-লেভেল ও-লেভেল পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁস, নেপথ্যে পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:৪০

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিঘাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিশ্ববিখ্যাত কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনও (সিআইই)। গত দুই মাসে তাদের ‘এ’ লেভেলের তিনটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশসহ এশীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে দুটি পরীক্ষা বাতিল করেছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ।

এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৪ সালে একটি এবং ২০২৫ সালে চারটিসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার (আইইএলটিএস) প্রশ্ন একাধিকার ফাঁস হয়। বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামে ফাঁস হওয়া এ প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে ৮০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন বলে দেশটির তদন্তে উঠে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রশ্নের বেশিরভাগই ফাঁস হচ্ছে পাকিস্তান থেকে। এরপর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জোনে। এতে বাংলাদেশসহ এশীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, কেমব্রিজের প্রতি বিশ্বজুড়েই মানুষের আস্থা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে তাদের ঘন ঘন প্রশ্নফাঁস রোধ করতে না পারায় দেখা দিচ্ছে আস্থার সংকট। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার সূচনা হয় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। বর্তমানে তিনটি প্রধান ধারার বা আন্তর্জাতিক বোর্ডের অধীনে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো কেমব্রিজ অ্যাসেসমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (সিএআইই), পিয়ারসন এডএক্সেল এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট (আইবি)। এ বোর্ডগুলো নিজস্ব সিলেবাস প্রণয়ন করে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান করে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল।


বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত নিবন্ধিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা ১৪৮টি। তবে বিভিন্ন তথ্য বলছে, এর সংখ্যা আরও বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০০টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে, যার অধিকাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তার মধ্যে দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজের বোর্ডের কারিকুলাম অনুসরণ করে। এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও লক্ষাধিক। মিডিয়ামের সব পরীক্ষার সমন্বয় করে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো ‘ও’ লেভেল (অর্ডিনারি লেভেল) এবং ‘এ’ লেভেল (অ্যাডভান্সড লেভেল)। ‘ও’ লেভেল সাধারণত মাধ্যমিক স্তরের সমমান, যেখানে শিক্ষার্থীরা ৪০টিরও বেশি বিষয়ের মধ্য থেকে ৫-১২টি বিষয় নির্বাচন করে। অন্যদিকে ‘এ’ লেভেল উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সমতুল্য এবং এখানে শিক্ষার্থীরা সাধারণত দুই-পাঁচটি বিষয় বেছে নেয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৭ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী ‘ও’ লেভেল এবং ৪ থেকে ৬ হাজার শিক্ষার্থী ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সাম্প্রতিককালে বেড়েছে কেমব্রিজের প্রশ্নফাঁস: গত দুই মাসে কেমব্রিজের তিনটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী। তার মধ্যে দুটি পরীক্ষা স্থগিত করেছে কেমব্রিজ। কেমব্রিজের তথ্যমতে, গত ১৫ মে ‘এ’ লেভেলের গণিত ৩২ (৯৭০৯) পরীক্ষা এবং ২৯ এপ্রিল গণিত ১২ (৯৭০৯) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রশ্নপত্রটি আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে পরীক্ষার আগেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আগামী ৯ জুন নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। তবে ১৫ মের গণিত ৩২ (৯৭০৯) পরীক্ষার বিষয়ে আগামী ২২ মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৩ সালের ‘এ’ লেভেলের গণিত পেপার-১, ২০২৫ সালে ‘এ’ লেভেলের গণিতের দুটি এবং কম্পিউটার সায়েন্সের একটি প্রশ্ন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এর বাইরে আরও কয়েকটি প্রশ্ন বিচ্ছিন্নভাবে ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলোর মধ্যে যেগুলো অত্যাধিক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলোর পরীক্ষা আবার নেওয়া হয়। আবার কোনো কোনো সময় গড় মার্ক দেওয়া হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মূলত ফাঁস হচ্ছে পাকিস্তান থেকে। এরপর সেই প্রশ্ন ইন্টারনেটের ডার্ক সাইটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংশ্লিষ্টরদের মধ্যে। এতে লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকা। এ চক্রটিকে ধরতে নানাভাবে চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ‘গণিত পেপার ৩২ (৯৭০৯)’ পরীক্ষা স্থগিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি প্রশ্ন মূলত একটি অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জন্য তৈরি করা হয়। ফলে প্রশ্নফাঁসের প্রভাব সব দেশেই পড়ে।

এর আগে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেমেরও (আইইএলটিএস) প্রশ্নফাঁস হয়েছে একাধিকবার। এ পরীক্ষার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও শিক্ষামূলক সংস্থা আইডিপি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ পরীক্ষায় ভুল স্কোর বা ফল পেয়েছেন। আইইএলটিএসের জন্য ‘একটি কারিগরি ত্রুটিকে’ দায়ী করেছে, যা ‘কিছু আইইএলটিএস একাডেমিক এবং জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষার লিসেনিং এবং রিডিং অংশে সামান্য উপাদানের ওপর প্রভাব ফেলেছিল’। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষার মাত্র ১ শতাংশ এতে প্রভাবিত হয়েছিল। তবে এ সংখ্যাও প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষার্থীর সমান হবে।

আইএলটিএসে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও হাজারো অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ভিসা পেয়েছেন বলে গত বছরের ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এসব পরীক্ষার্থী আগেই সঠিক উত্তর জানতে পারেন। ইংরেজি ভাষায় দুর্বল ছাত্র, এনএইচএস (স্বাস্থ্য) কর্মী এবং অন্য অভিবাসীদের স্টাডি ভিসা বা কাজের ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা পাওয়ার যোগ্যতা তাদের ছিল না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এনএইচএস এবং সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত বহু মানুষের ইংরেজি জ্ঞান অপর্যাপ্ত, যা রোগীদের ঝুঁকিতে ফেলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণও হচ্ছে।

উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা: বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কেমব্রিজের পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও বিদেশে ভর্তির পথ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

আতিকুল পারভেজ নামের ‘এ’ লেভেলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হঠাৎ পরীক্ষা বাতিল, পুনঃপরীক্ষার চাপ এবং ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছে। একটা পরীক্ষার জন্য অনেক পড়াশোনা, কোচিং করে প্রস্তুতি নিতে হয়।’

ফারহানা ফেরদৌস নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা অনেক পড়াশোনা করে কষ্ট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন যদি আরেকজন শিক্ষার্থী কম পড়াশোনা করে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফল করে, তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক বিষয়। একবার পরীক্ষা বাতিল হলে আবার পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া আমাদের জন্য দুরুহ হয়ে ওঠে। আমরা আশা করি, প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ‘কেমব্রিজের মতো একটি বোর্ডে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া খুবই স্পর্শকাতর। আমরা বাচ্চাদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পাড়াশোনা করাচ্ছি। এই মানদণ্ডের একটি বড় বিষয় তাদের প্রশ্ন ফাঁস না হওয়া। তবে সাম্প্রতিককালে তাদের প্রশ্ন হওয়ায় অভিভাবক হিসেবে আমরা হতাশ। এ ধরনের ঘটনা যাতে আগামীতে না ঘটে, তার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে বাংলাদেশের পরীক্ষার মতো কেমব্রিজের পরীক্ষা নিয়ে আস্থা কমে যাবে।’

রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাডেমিয়ার পরিচালক ড. মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে কেমব্রিজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ঠিক তেমনি আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কারণ অভিভাবকরা আমাদের দোষারোপ করছেন। তারা জানতে চান, কেন এমনটা হচ্ছে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ট্রমা থেকে উত্তরণে কেমব্রিজ যাতে বিষয়টি নিয়ে কঠোরভাবে কাজ করে সেই দাবি জানাই।’

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘এটা খুবই অপ্রত্যাশিত বিপদ। আগে ইন্টারন্যাশনাল বোর্ডে প্রশ্নফাঁস খুব একটা শোনা যেত না। এখন প্রযুক্তি এত সহজ হয়েছে যে, ইচ্ছে করলেই প্রশ্নফাঁস সম্ভব। তাই প্রশ্নফাঁস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের কঠোরভাবে উপায় বের করতে হবে। আর ইন্টারন্যাশনাল বোর্ড প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে না পারলে বাংলাদেশের বোর্ডগুলো কীভাবে পারবে। বাংলাদেশেরও এ বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে পড়াশোনা করল, তার অর্জিত মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয়। কাজেই এটা অত্যন্ত গোপনীয়। প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা প্রদ্ধতির ওপর ছেলেমেয়েদের হতাশা জন্মায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের উদাসীনতা তৈরি হয়। তাই এটা আমাদের দেশে কিংবা বাইরের সিস্টেমে হোক, কোনো জায়গায়ই প্রশ্নফাঁস হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রদ্ধতিকে আরও সংবেদনশীল করা দরকার।’

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা বলেন, ‘কেমব্রিজ কোনো লোকাল অফিস এক্সাম ডিস্ট্রিবিউশন করে না। আমাদের কাজের মধ্যেও এটা পড়ে না। আমাদের কাজ টিচার ট্রেনিং, স্কুলের সমস্যা, কারিকুলাম পরিচলনা করা। এক্সাম ডেলেভারি দেয় ব্রিটিশ কাউন্সিল। যে কারণে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো বক্তব্য আমরা দিতে পারব না।’ তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া এই বিষয়ে জানতে কেমব্রিজের অফিসিয়াল ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে ফিরতি বার্তায় তাদের প্রতিনিধি দল শিগগিরই যোগাযোগ করবে বলে জানায়। এ ছাড়া এ বিষয়ে অতিরিক্ত সহায়তার জন্য নকিব হায়দার নামে একজনের মেইল আইডি দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নকিব হায়দার ব্রিটিশ কাউন্সিল ঢাকার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে কথা বলবেন বলে জানান।

তবে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গত ১৩ মে এক বিবৃতিতে প্রশ্নপত্র চুরির ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে জানায়, কিছু অপরাধী পরীক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র-কালবেলা

অন্যান্য খবর

পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন হাসানুল হক ইনু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আটটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন […]

পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন হাসানুল হক ইনু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১৭:২১

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আটটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে বলা হয়, তিন নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হলেও সব দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিভিন্ন নথি ও আলামত উপস্থাপন করে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় হাসানুল হক ইনু আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) রায়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে।