বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না—এমন মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ভাড়াটে লোক দিয়ে দেশ চলবে না। যাদের শেকড় এই দেশে নেই, তাদের দিয়ে স্থায়ী কিছু আশা করা যায় না।”⟶
মাসুদ কামাল অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তি আলী রিয়াজ এবং তার সহযোগী মনির হায়দার—উভয়েই আমেরিকার নাগরিক। তিনি বলেন, “তারা কি এই দেশের লোক? রিপোর্ট জমা দিয়েই তারা ফিরে যাবেন আমেরিকায়। যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে যায়, তাহলে তাদেরকে এখানে জবাবদিহি করানো যাবে না। কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”⟶
তিনি বলেন, “দুই দিন পরে ভাড়া শেষ, তারা চলে যাবে ভাড়ার টাকা নিয়ে। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থও করতে পারে। দুই একজন দেশপ্রেমিক হতে পারেন, কিন্তু সবার দায় এড়ানো যায় না।”⟶
পোশাক শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল বলেন, “আমাদের রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে, যেখানে ভিয়েতনাম দিচ্ছে ২০ শতাংশ। এতে করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে প্রায় ৮–১০ লাখ শ্রমিক একদিনেই বেকার হয়ে যেতে পারে।”⟶
তিনি অভিযোগ করেন, “এই সংকট সমাধানে আমরা তিন মাস পেয়েছিলাম, কিন্তু সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এখন শেষ মুহূর্তে দৌড়ঝাঁপ চলছে। অথচ এই ‘ভাড়াটে লোকদের’ মধ্যে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে, কারণ তারা এই দেশের কেউ না। সরকার পরিবর্তনের পর এদের আর খুঁজেও পাওয়া যাবে না।”⟶
সামগ্রিকভাবে মাসুদ কামাল সাবধান করেছেন—বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়, বরং তাতে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কাই বেশি।
