গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও সেটিকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য তুলে ধরতে ভূমিকা রাখা কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবিতে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বাস ভাঙচুর কিংবা সহিংসতা কেউ সমর্থন করে না। তবে রাস্তায় বসে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বৈধ পদ্ধতি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে তিনি প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামলেও তাকে বাস ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রেপ্তার বা মামলা দেওয়ার একটি বয়ান সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে যে মুক্ত পরিবেশ রয়েছে, সেটিকে ‘আপৎকালীন’ উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, এই পরিবেশ কতদিন থাকবে, তা কেউ জানে না। ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ও কথা বলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। এই সংকোচন ঠেকাতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক সাংবাদিককে গণমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। একই সঙ্গে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইনসহ ইতিবাচক নীতিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন। তারা সে সময়ের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। কয়েকজন সাংবাদিক অভ্যুত্থানের পর চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। আবার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেন।