ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামের পক্ষে ঝুঁকি নিয়ে এককভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তিনি দাবি করেন, দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমী জনগণ হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বরং দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং সেই অর্থেই বিদেশে কুখ্যাত ‘বেগম পাড়া’ গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিশালী ভোট বাক্স গড়ে তুলতে চেয়েছিল। তবে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রকৃত অর্থে তারা ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রেজাউল করীম বলেন, দলটির এক হিন্দু প্রার্থী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন—জামায়াত ইসলামী দল নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াত নিজেরাই বলেছে যে তারা শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, অথচ শরিয়াহই ইসলামের মূল ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলামও মন্তব্য করেছেন—জামায়াত ক্ষমতায় এলেও দেশ কখনো ধর্মীয় রাষ্ট্র হবে না। এর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, শরিয়াহকে প্রাধান্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। দলের ঘোষিত ইশতেহারেও দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রয়েছে বলে জানান তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্য দলও ইশতেহার ঘোষণা করেছে, তবে ইসলামের প্রশ্নে তারা নীরব থেকেছে। তার মতে, যারা স্পষ্টভাবে ইসলামের কথা বলে না, তাদের প্রকৃত অর্থে ইসলামী দল বলা যায় না।
তিনি বলেন, এই দেশে অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার মাজার রয়েছে, অথচ ইসলামী আইন বাস্তবায়নের পরিবর্তে পশ্চিমা ইসলামবিরোধী নিয়ম-কানুন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমা সমাজব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে তিনি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, এমন নৈতিকভাবে ক্ষয়িষ্ণু ব্যবস্থা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ক্ষমতার মোহে একটি দল সেই ঐক্য ভেঙে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জোট ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একা নয়। তার ভাষায়, “আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন, দেশপ্রেমিক মানুষ আছেন এবং ইসলামপ্রেমী জনগণ আছেন। হাতপাখার পক্ষে ভোট দিতে মানুষ অপেক্ষা করছে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। আরও বক্তব্য দেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সভায় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।