২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার আগে বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে যে ঐতিহাসিক ও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.), তা এখনও বহু মানুষের স্মৃতিতে অম্লান। আদালতে দাঁড়িয়ে কোরআনে হাত রেখে আল্লাহর নামে শপথ করে তিনি জানান—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সঙ্গে তার “হাজার কোটি মাইল” দূরত্বও নেই।
বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীনকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ২০টি মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছে। হেলাল উদ্দীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম বিকৃত করে ‘দেলোয়ার শিকদার’ বানানোর চেষ্টা করেছেন—যা ছিল একজন আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামী বক্তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার কৌশল।
তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “আজ আমি এই আদালতের অসহায় এক নির্দোষ আসামি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণে যদি আমার প্রতি জুলুম করা হয়, তবে কিয়ামতের আদালতে আপনারাই হবেন আসামি। আর আমি হব বাদী।” আদালতে উপস্থিত সবার মাঝে নীরবতা নেমে আসে তার এ কথায়।
আল্লামা সাঈদী বলেন, সব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। “আল্লাহর কসম! এ সকল অভিযোগের একটি বর্ণনাও সত্য নয়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন সুরা ত্বীন ও সুরা দোখানের আয়াত, যেখানে আল্লাহ ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, আল্লাহ চাইলে তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যাচার ও জুলুমের বিচার এ দুনিয়ার আদালতেই হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দোয়া করেন—যারা মিথ্যা সাক্ষী, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে কষ্ট দিয়েছে, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত দান করেন। আর হেদায়েত যদি তাদের নসিবে না থাকে, তবে তার ভক্ত-অনুরাগীদের চোখের পানির প্রতিফল হিসেবে তারা যেন এর বহু গুণ কষ্ট ভোগের আগে মরেও না যায়।
তার এই বক্তব্য সে সময় আদালতে ও দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে, এবং এখনও ন্যায়বিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উদ্ধৃত হয়।