বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত করেছে বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজন করা এক আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও প্রগতিশীল শক্তিগুলো নির্বাচন-মুখী। আমরা নির্বাচনের পক্ষে আছি এবং তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম—যাতে দেশের অপশক্তি কোনোভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন হলে অপশক্তিগুলো মাথা তুলতে পারতো না।”
জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব জানান, সনদে যে বিষয়গুলো সম্বলিত হয়েছে, তা বিএনপির পূর্বেই প্রস্তাবিত ৩১ দফার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিএনপি সংস্কারপন্থি দল। কিন্তু জনগণকে বোকা ভাবিয়ে নয়, তাদের সামনে স্পষ্টভাবে প্রস্তাব তুলে ধরতে হবে। ঐকমত্য কমিশনে আমাদের স্বাক্ষ্যের সময় নোট অব ডিসেন্ট জমা ছিল, পরে সেগুলো বাদ দেওয়াটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, কিছু দল রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি; রাস্তায় প্রকাশ্যে আগুন সন্ত্রাস, প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা—এগুলো আমরা করা নাই। একটি দল আন্দোলন করে সব চাপিয়ে দিতে চায়।” তিনি উল্লেখ করেন, দল হিসেবে তারা সবসময় আইনসিদ্ধ পথে থেকে দাবি জানাতে বিশ্বাসী।
নির্বাচনপদ্ধতি ও গণভোট নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা গণভোটের বিরোধী নন; তবে নির্বাচনের ধারাবাহিকতাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। “গণভোটের প্রয়োজন ছিল না; তবু আমরা রাজি হয়েছি। এখন তারা গণভোট আগে চায়—এর কারণও স্পষ্ট করা প্রয়োজন,” তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচন ঘিরে প্রধান উপদেষ্টা বা যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা হতে পারে—তবে ‘কারা এটি করতে পারে’ তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল বলে মনে করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিদেশে অবস্থানকে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “হাসিনা গণমাধ্যমে কথা বলছেন কিন্তু ক্ষমা চাননি। তিনি ভারতে বসে অপপ্রচার চালাচ্ছেন—ভারতকে অনুরোধ করব, হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।” তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেসব কাজ হয়েছে সেগুলোর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি-জামায়াত বিরোধিতার বিষয়ে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ভোট ও গণতান্ত্রিক প্রয়াস রক্ষায় সকল প্রাসঙ্গিক পক্ষের সৎ আচরণ আবশ্যক বলে জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নির্বাচন যাতে বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ হয়—তার জন্য জাতীয় একতা ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।