বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আগে সংস্কার,পরে নির্বাচন : ইসলামী আন্দোলনের আমির

নির্বাচনের চেয়ে সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে, এই সংস্কার দ্রুত করে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ও অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা করা উচিত বলে মনে করছে দলটি। তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য খুব বেশি সময় নেওয়া উচিত না। সময়ের কথা বলতে হলে আমি মনে করি, এটা এক বছর বা দেড় বছরের মধ্যে হওয়া উচিত। ১৯৮৭ সালে গঠিত ‘ইসলামী […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১৫

নির্বাচনের চেয়ে সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে, এই সংস্কার দ্রুত করে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ও অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা করা উচিত বলে মনে করছে দলটি।

তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য খুব বেশি সময় নেওয়া উচিত না। সময়ের কথা বলতে হলে আমি মনে করি, এটা এক বছর বা দেড় বছরের মধ্যে হওয়া উচিত।

১৯৮৭ সালে গঠিত ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’ পরবর্তীতে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে রাজনীতির মাঠে সরব হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি দলগুলো নিয়ে একটি মহাজোট গঠনের আলোচনা চলছে বলে জানান সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, সব ইসলামি দল একটি মহাজোট গঠনের জন্য কাজ করছে। আমরা আলোচনা করছি। নির্বাচনের জন্য একটি ঐক্যফ্রন্ট তৈরি করতে পারব বলে আশা করছি।

তার ভাষ্য, ইসলামি দলগুলো একটি ব্যানারে নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করবে এবং প্রতিটি আসনে নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে জোট প্রার্থীদের সমর্থন দেবে।

এমন কোনো জোট হলে তার নেতৃত্ব কে দেবে, জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, বেশিরভাগ দলই আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব চাচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় নির্বাচনী জোটের প্রয়োজন হয় না। দলগুলো স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালাতে পারে। এমনটা হলে নির্বাচনী জোটের পরিবর্তে তাদের জোট একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মের মতো হবে।

সংসদ গঠনের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রতিটি দলকে তাদের ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ভোটের মূল্য দেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক ভেবেছি এবং অন্যদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। এই ব্যবস্থা বিশ্বের ৯১টি দেশে কার্যকর রয়েছে। সবাই এই ধরনের ব্যবস্থা থেকে উপকৃত হয়।
তিনি বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থা জনগণের জন্য কাজ করছে না। আমরা দেখেছি, এর মাধ্যমে কেবল ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যতগুলো সরকার এসেছে, তার প্রতিটির মধ্যে ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য ছিল এবং কেবলমাত্র আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির জানান, পূর্ববর্তী শাসনামলগুলো জনগণ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর অনেক আইন করেছিল। তারা সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তনও করেছে। সেগুলোই প্রথমে বাদ দেওয়া উচিত।

কেমন রাষ্ট্র চান, সেখানে অমুসলিমদের মর্যাদা কেমন হবে, জানতে চাইলে সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য ইসলামই একমাত্র মাধ্যম, যেখানে প্রত্যেকের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়। আমি শুধু একটি কথাই বলবো, যেকোনো ধরনের আশঙ্কা দূর করতে হবে। ইসলাম বলে, একজন অমুসলিমের সম্পত্তি ও সম্পদ সমান সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং এক্ষেত্রে তাদের মুসলিমের সমান মর্যাদা দিতে হবে।

নারী অধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলাম নারীদের সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে। নারীর স্বাধীনতা মানেই নগ্নতার অধিকার নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নারীর স্বাধীনতা বলতে এখন এটাই বোঝায়। এটা কেবল সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে।

রেজাউল করিমের বাবার অধীনে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ২০০৪ সালে নারীদের খেলাধুলার বিরোধিতা করেছিল। সংগঠনটি নারীদের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল৷ তারা এটাকে ‘নারীর জন্য অপমানজনক’ বলে ঘোষণা করে।

রেজাউল করিম বলেন, ইসলামে নারীর মর্যাদা প্রকৃতপক্ষে পুরুষের চেয়ে বেশি। ইসলাম বলে, বাবা ও মা যদি কোনো সন্তানকে ডাকে, তাহলে সন্তানের উচিত আগে মায়ের ডাকের উত্তর দেওয়া।
তিনি জানান, তাদের দলে লক্ষাধিক নারী কর্মী রয়েছেন। তবে, দলের নীতিনির্ধারণী কমিটি মজলিশ-ই-শুরা এবং কার্যনির্বাহী কমিটিতে এখনো ৩০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নেই। যদিও এই লক্ষ্য অর্জনে তার দল কাজ করছে বলে তিনি জানান।

তাদের নীতিনির্ধারণী কমিটি দুটোতে নারী অংশগ্রহণের হার ঠিক কত শতাংশ, জানতে চাইলে তিনি একই উত্তর দেন যে, দলটির নীতিনির্ধারণী সংস্থায় ৩০ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের আর থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আমরা মনে করি, বৃহত্তর স্বার্থে তার নিজেরই পদত্যাগ করা উচিত। সেক্ষেত্রে আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে না।

 

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৫৭

রাজনীতি

স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী […]

নিউজ ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি এবং দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে দলের জন্য তার অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমানও জানিয়েছেন, জামায়াত যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেই প্রার্থী নির্বাচন করে। সাবিকুন্নাহার মুন্নী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দেশের অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৫৭

রাজনীতি

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়ামন্ত্রী হয়ে বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। কথাগুলো বলতে চাইনি, তার কর্মকাণ্ডে না বলেও থাকা যাচ্ছে না। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন আসিফ। তিনি বলেন, গত দেড় বছর ক্রীড়া […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:০৩

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। কথাগুলো বলতে চাইনি, তার কর্মকাণ্ডে না বলেও থাকা যাচ্ছে না।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন আসিফ।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর ক্রীড়া ক্ষেত্রের জন্য কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা এবং বাধার সম্মুখীন হয়েছি এই একজন থেকে। বারবার ব্যর্থ হয়েও থামেনি সে। এখন নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ক্ষোভও আমার ওপর দেখাচ্ছে। ঢাকা-১৬ তে তো এনসিপিরও প্রার্থী ছিলো না!

তিনি আরও বলেন, প্রথমে এক ফ্যাসিবাদের দোসর সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধুকে নিয়ে বাফুফে দখল করতে চাইলো, ব্যর্থ হলো। তারপর থেকে ফুটবলের উন্নয়নে সকল কার্যক্রমে বর্তমান বাফুফে নেতৃত্ব এবং সরকারকে বাধা দিতে থাকলো।

তারপর বিসিবিতে একজন ক্রিকেটারকে সামনে রেখে নিজের আপন ভাইসহ নিজের ইচ্ছামতো একগাদা লোককে আনতে চাইলো। সেখানেও নির্বাচনে পরাজিত হয়ে পদে পদে অসহযোগিতা আর বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও বলেন, অথচ আমি পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে চেয়েছিলাম। এমনকি ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে যে সার্চ কমিটি করা হয় সেখানেও তার পরামর্শে একজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম শুরুর দিকে। পরবর্তীতে সার্চ কমিটির সদস্যপদ ব্যবহার করে সেই ব্যক্তি বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যালয় দখল করা শুরু করলে তাকে অপসারণ করা হয়। অপসারণ করার পর ওই ব্যক্তিকে দিয়ে আমার নামে মামলাও করানো হয়েছিল। সরকারে থেকেও মামলা খেয়েছি ক্রীড়াঙ্গনের মাফিয়াদের মাধ্যমে।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, এখন স্পোর্টস মিডিয়াগুলো দখলে নিয়ে যাচ্ছেতাই নোংরামি করে বেড়াচ্ছে। আমরা ফুটবল, ক্রিকেটসহ স্পোর্টসের প্রায় সব ক্ষেত্রে যুগ যুগের মাফিয়াদের হটিয়েছি। যার ফলাফল দেশবাসী মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছে।

এই মাফিয়াদের সাথে মিলে স্পোর্টস মিডিয়া দখলের মাধ্যমে যাচ্ছেতাই আক্রমণ চালানো হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে (একটা নমুনা দিলাম নিচে)।

তিনি আরও বলেন, দেড় বছর ভদ্রতা এবং নীরবতার সাথে কাজ করে গেছি, আপনাদের অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলিনি বলে ভাববেন না যে কথা বলতে পারি না। বাধ্য করবেন না, আপনাদের নোংরামিতে নিজেকে জড়াতে চাই না।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৫৭

রাজনীতি

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ […]

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

নিউজ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক মহলে এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত তালিকাটি কেবল হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যকে দেখা না-ও যেতে পারে। তারেক রহমান মূলত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর একাধিক নেতারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি এবং সমসংখ্যক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুরুতে মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞদের দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ ও মেধাবী মুখ হিসেবে সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মাহদী আমিনের মতো নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। শরিকদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

নবনির্বাচিত এই সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। তারেক রহমান ইতিপূর্বে দলীয় ফোরামে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এ লক্ষ্যে সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করলেও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ বাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়েই তিন দশক পর বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক নতুন সরকার।

সূত্র: মানবজমিন

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৮৩