মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

নতুন রাজনৈতিক দল নেতৃত্বে আসছেন কারা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল, সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন। শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আহ্বায়ক হিসাবে নাহিদ ইসলামের নাম বলছেন। নাম চূড়ান্ত হলে তিনি […]

নিউজ ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৭:১৩

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল, সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন।

শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আহ্বায়ক হিসাবে নাহিদ ইসলামের নাম বলছেন। নাম চূড়ান্ত হলে তিনি পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ দল ঘোষণা হবে। এর আগে দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, তরুণদের মধ্যে যারা সিনিয়র, আন্দোলনের সময় সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়েছেন, যারা রাজনীতি সম্পর্কে ভালো বোঝেন তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদপদবিতে রাখা হবে। তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বেই রাজনৈতিক দল হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অনেক বছর পর একটি বড় রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।

জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সব কার্যক্রম প্রায় শেষ। দেশের চলমান রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কাঠামো ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক দল সামনে আনতে চান তারা। বিশেষ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন দলের নেতৃত্ব নির্বাচন ও দলের অভ্যন্তরে বহুমুখী গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে চান তারা। কেউ চাইলে দীর্ঘ সময় দলের শীর্ষ পদ দখলে রাখতে পারবেন না।

এ ছাড়াও দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সময় উপযোগী রাজনৈতিক দল গড়তে প্রস্তুত তরুণ ছাত্র নেতারা। ফলে শেষ মুহূর্তেও নেওয়া হচ্ছে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত। এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন দল গঠন করলেও জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সংগঠন দুটি কাজ করবে।

নেতারা বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়া হবে। এতে প্রথম পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত হবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রনেতা। আহ্বায়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম সর্বাধিক আলোচিত। নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আখতার হোসেনকে।

তিনি বর্তমান জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ হোসেল, নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। আখতার হোসেন না হলে এদের ভেতর থেকে যে কাউকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মূলত নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে দেওয়া এসব ছাত্র নেতার ওপরই আস্থা রাখতে চান তরুণরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা যুগান্তরকে বলেন, দল গঠনের কাজ চলমান। কবে এই দল ঘোষণা হবে এবং কারা দায়িত্বে থাকবেন- তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সেজন্য ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ অবস্থার মধ্যেই রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সফল করার লক্ষ্যে গত সেপ্টম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এরপর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরপরই নতুন দল ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে দল গঠন হবে? কারা এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনা শুরু হয়।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫