রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছ ধরার একটি ফিশিং বোটে বজ্রপাতের ঘটনায় সাকিব (২৩) ও ইমন (২৪) নামে দুই জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বোটের মাঝিসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মায়ারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিব ও ইমন দুজনই রাঙ্গাবালী উপজেলার যুগিরহাওলা-সামুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। সাকিব ওই গ্রামের শহিদ শিকদারের ছেলে এবং ইমন হাবিব খাঁর ছেলে। নিহত সাকিবের এক বছরের একটি শিশু সন্তান এবং ইমনের দুই বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সুমন খাঁর মালিকানাধীন একটি ফিশিং বোটে সাকিব, ইমনসহ পাঁচ জেলে রোববার সকালে ইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ারচর সংলগ্ন এলাকায় জাল ফেলার সময় হঠাৎ বোটটির ওপর বজ্রপাত হয়। এতে সাকিব ও ইমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
বজ্রপাতে বোটের মাঝি সুমন খাঁ এবং জেলে নিবির ও নিপু আহত হন। পরে অন্য একটি বোট এসে তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতরা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বোটের মালিক ও নিহত ইমনের বড় ভাই সুমন খাঁ বলেন, সকাল ১০টার দিকে আমরা মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাই। বিকেল ৪টার দিকে মায়ারচরে জাল ফেলছিলাম। হঠাৎ বজ্রপাত হলে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি, আমার ভাই ইমন নেই। আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে অন্য একটি বোট এসে আমাদের উদ্ধার করে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বজ্রপাতে দুই জেলে নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের একজন এসআই রয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই রাঙ্গাবালী উপজেলার যুগিরহাওলা-সামুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহত সাকিব ও ইমনের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র এক বছরের শিশু সন্তান রেখে সাকিবের মৃত্যু এবং দুই বছরের শিশুসন্তান রেখে ইমনের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দুই পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।