বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বললেন, যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না।
আজ রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, জুলাই আন্দোলন হচ্ছে বহুদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ফ্যাসিবাদরা দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষমতার লোভে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে বিকিয়ে দিয়েছিল । তাই দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্টদের দেশ থেকে বিতারিত হতে বাধ্য করেছে।
কোনভাবে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে সে জন্য তারা যা করেছে আমাদের তাদের বিপরীত কাজ করতে হবে। যাতে দেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোন চোরা পথে কথিত স্বৈরাচারীদের প্রত্যাবর্তন হতে না পারে-উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দুঃশাসন মোকাবিলার অদম্য শক্তি রয়েছে। যুগে যুগে এ দেশের মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করেছে।
ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী দেশ হওয়ায় ব্রিটিশদের এ দেশের প্রতি লোভনীয় দৃষ্টি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে এ দেশে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সিরাজউদ্দৌলা দুইবার ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা উদ্ধার করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়।
রিজভী বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য যারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে, দেশের মানুষ তা সহ্য করেনি। বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই প্রতিবাদ ধরে রেখেছেন। অসীম সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আধিপত্যকামী শক্তিগুলো খালেদা জিয়ার অবস্থান সহ্য করেনি। এ কারণে তাকে কারাগারে নেওয়া ও নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। গুম-খুন, রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়েছে।