বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছিল। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, ড. ইউনূস নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ক্ষমতায় আনার একটি পরিকল্পনা ছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকারে তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এসব দাবি করছেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, অনেকেই মনে করেন ড. ইউনূস স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিয়েছেন। তবে তার দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও চাপের মুখে তাকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নির্বাচন চায়নি এবং তারা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে না বলে অবস্থান নিয়েছিল।
এ সময় নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়ার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সরকার পতনের হুমকি না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দাবি। এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামী বা এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।