জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই যেমন গণভোট হয়েছে, একই ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই গণভোটকে অবৈধ বলা হলে সরকারের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একসময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও পরে গণভোটকে অসাংবিধানিক বলেছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, “যে জুলাই ঘোষণার ভিত্তিতে গণভোট হয়েছে, সেই একই ঘোষণার ভিত্তিতেই নির্বাচন হয়েছে। যদি গণভোট অবৈধ হয়, তাহলে সরকারও অবৈধ। আর যদি গণভোট অসাংবিধানিক হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় গঠিত সরকারও সাংবিধানিক বৈধতা হারায়।”
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও যদি একই পথে এগোয়, তাহলে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম হচ্ছে এবং উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্যের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তার দাবি, সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারদের রাজনৈতিক নেতাদের কমিশন দিতে হচ্ছে, যার প্রভাব প্রকল্পের মানের ওপর পড়ছে।
প্রশাসনের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু জনগণ সবসময় থাকবে। তাই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করা উচিত।
তিনি বলেন, “এ লড়াই বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াতের নয়; এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই।”
পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতিকে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, সীমান্ত হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক এটিএম মাহবুব আলম, সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, মহানগর সদস্য সচিব ইকরাম এলাহী খান, ধোবাউড়া উপজেলা সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান এবং এনসিপি মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সাইফুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।