বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম হত্যা মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই নির্দেশ দেন।
এর আগে সকালে আতিকুল ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত পুলিশের সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ আছে।
আদালত কক্ষে কার্যক্রম শেষে পুলিশ তাকে লিফট দিয়ে নিচে নামাতে চাইলে বাইরে থাকা কয়েকজন প্রতিবাদ জানায়, তাকে যেন হেঁটে নামানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অন্য লিফট ব্যবহার করে আতিকুল ইসলামকে আবার হাজতখানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামি আতিকুল ইসলাম বর্তমানে বনানী থানার অপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তদন্তে প্রমাণ মেলে যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি হয়ে পড়ে।
মামলার বাদী রেদোয়ান হোসেন অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৮ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার আমির কমপ্লেক্স এলাকার সড়কে একদফা আন্দোলনে অংশ নেওয়া জনতার ওপর আসামিদের নির্দেশে অস্ত্রধারীরা অতর্কিতে গুলি চালায়। এতে তার বাবা তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
আতিকুল ইসলামের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন বলেন,
“১৭ মামলায় আটক হয়ে আতিকুল ইসলাম কারাগারে আছেন। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। পরে মেয়র হয়েছেন। এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”