গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনানিবাসের সাব-জেলে বন্দি আছেন। বুধবার থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। প্রথম দিন স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে পুরো কারাগারজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত আধা ঘণ্টার সময় স্বজনদের ভিড় বেশি হওয়ায় প্রত্যেককে ২০ মিনিট করে সুযোগ দেওয়া হয়। সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন দুজন এআইজি (প্রিজন্স) ও তিনজন ডেপুটি জেলারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। কারা কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল—সাক্ষাতের সময় কেউ কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়তে পারেন, তাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সাক্ষাতে পারিবারিক আলোচনা ছাড়াও চলমান মামলার বিষয়ে কথাবার্তা হয়।
কারাবিধি অনুযায়ী, প্রথম সাক্ষাতের ১৫ দিন পর দ্বিতীয়বার দেখা করার সুযোগ পাবেন তাদের স্বজনরা। বুধবারের সাক্ষাতে আসামিদের স্ত্রীরা ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন; অন্য কোনো আত্মীয়কে অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারাবিধি অনুসারে মা–বাবা, ভাই–বোন, ছেলের স্ত্রী এবং মেয়ের জামাইকেই স্বজন হিসেবে গণ্য করা হয়।
কারা সূত্র জানায়, বন্দিদের জন্য বাইরের খাবার নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তারা কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়মিত খাবারই খেয়েছেন। সকালে রুটি ও সবজি, দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি ও মাছ বা মাংস দেওয়া হয়। কারও পছন্দ অনুযায়ী মেন্যু পরিবর্তন করা হয়। রাতের খাবারেও একই মেন্যু অনুসরণ করা হয়।
বন্দিদের সময় কাটানোর বিষয়ে কারা কর্মকর্তারা জানান, তারা বেশির ভাগ সময় শুয়ে বা বসে বই, পত্রিকা পড়ছেন এবং টেলিভিশন দেখছেন। নামাজ ও কোরআন পাঠেও সময় ব্যয় করছেন অনেকে। তাদের সহায়তার জন্য কয়েকজন সেবক নিযুক্ত আছেন, যারা চা বানানোসহ দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করছেন।
আদালতে হাজিরের প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত জানা গেছে। প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর কাছে গাড়ি চাইলেও সেনাবাহিনী “বিতর্ক হবে” বিবেচনায় গাড়ি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রিজন ভ্যান ব্যবহার করে আসামিদের আদালতে নিয়ে যায় এবং একই গাড়িতে তাদের ফেরত আনা হয়। জানা গেছে, ওই ধরনের ছয়টি প্রিজন ভ্যান কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আছে, যার মধ্যে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এগুলো ২০২৩ সালে আমেরিকান অ্যাম্বাসির সহায়তায় সংগ্রহ করা হয়।
সাব-জেলে প্রত্যেক সেনা কর্মকর্তাকে পৃথক রুমে রাখা হয়েছে। সেখানে মোট ১৬টি রুম রয়েছে। তবে নতুন আসামি এলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি রুমে দুই বা তিনজনকেও রাখা হতে পারে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানান, সাব-জেলটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং সব নিয়মকানুন মানা হচ্ছে অন্যান্য কারাগারের মতোই। তিনি বলেন,
“বুধবার আমি সাব-জেলে গিয়েছিলাম। আসামিদের কিছুটা বিমর্ষ দেখেছি। তারা বুঝে উঠতে পারছে না পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। তবে কেউ অস্বাভাবিক আচরণ করেনি। তাদের নির্দেশ দিয়েছি কারাবিধি মেনে চলতে হবে, তারা তাতেই সম্মতি জানিয়েছে।”