রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি বলেন, “যেকোনো জঘন্য অপরাধে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসে। বিচার দীর্ঘ হলে অপরাধীর সাহস বেড়ে যায়, সমাজে অনিয়ম এবং অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে।”
এদিকে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”
তিনি জানান, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনের ধারা ১০ এর অধীনে পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে দিনের আলোয় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে, ইট-পাথর দিয়ে মাথা ও শরীর থেঁতলে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের বিষয় উঠে এসেছে। নিহত সোহাগ একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিএনপি। একইসাথে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। দলটি সন্ত্রাসবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।