আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত মূল্যসূচকের তুলনায় বেশি দাম দিয়ে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে তিনটি এলএনজি কার্গো কেনায় পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম সূচকের তুলনায় কার্গোগুলো কিনতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে।
দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম দিয়েছে ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার। একই সময় জেকেএম সূচকে দাম ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার।
আরেকটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুর প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার দর দেয়। অথচ ওই সময় জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আগামী ৫ থেকে ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের দেওয়া দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার। তখন জেকেএম সূচকে এলএনজির দাম ছিল প্রায় ২৫ ডলার।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএমের মূল্যসীমা ছিল প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলার। সেই হিসাবে তিনটি কার্গোর প্রতিটিই আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনতে হয়েছে।
বাড়তি দামের কারণ ব্যাখ্যা করে জ্বালানি বিভাগকে আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুসংক্রান্ত শর্তের কারণেও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরপত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে সংস্থা দুটির ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্পট মার্কেট থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহের শর্ত দিয়ে দরপত্র আহ্বান করায় সম্ভাব্য সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়ায় দরও তুলনামূলক বেশি উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী হলেও নির্ধারিত স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় তারা দরপত্রে অংশ নিতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।