বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এতে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানাউল্লাহ বলেন, “ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—জাতীয় নির্বাচনে তো নয়ই, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আর ইভিএম ব্যবহার হবে না। নির্বাচন হবে ব্যালট পেপারে।” তিনি জানান, কমিশনের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব নির্বাচনে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম তৈরির কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাসের শেষে বা আগস্টের শুরুতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, মৃত ভোটার কর্তন—সব কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। “প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে,” বলেন নির্বাচন কমিশনার।
পোস্টাল ব্যালট নিয়েও কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। সানাউল্লাহ বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। এটি নিয়ে আলাদা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফেরাতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশন মনে করে, ইভিএম নিয়ে বিতর্ক, আস্থার সংকট ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ব্যালটে ফিরে যাওয়াই হবে সর্বোত্তম পথ।
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা বলেছেন—এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে কমিশন ভবিষ্যতেও নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে বলে জানানো হয়েছে।