বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

গিনেস বুকে রেকর্ড গড়েছিলেন আগেই, এখন গড়ছেন বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক নাম – আশিক চৌধুরী । গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লেখানোর পর এবার দেশের অর্থনৈতিক নেতৃত্বেও রাখছেন অসাধারণ ভূমিকা । সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান-সবখানেই এখন তাঁর গল্প, তাঁর বন্দনা । ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক পদত্যাগ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের পর দেশের দায়িত্ব নেন নোবেল […]

গিনেস বুকে রেকর্ড গড়েছিলেন আগেই, এখন গড়ছেন বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৬

বাংলাদেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক নাম – আশিক চৌধুরী । গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লেখানোর পর এবার দেশের অর্থনৈতিক নেতৃত্বেও রাখছেন অসাধারণ ভূমিকা । সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান-সবখানেই এখন তাঁর গল্প, তাঁর বন্দনা ।

৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক পদত্যাগ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের পর দেশের দায়িত্ব নেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস । এরপর এক মাস পার হতেই সিঙ্গাপুর থেকে আশিক চৌধুরী–কে উড়িয়ে এনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)–এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি ।

নিয়োগের শুরুতে তাঁর দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে ছিল নানা সংশয় । তবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই সংশয় কাটিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আশিক চৌধুরী ।

তিনি একদিকে যেমন বৈদেশিক বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, অন্যদিকে দেশের মাটিতে একত্র করেছেন নাসা, স্টারলিঙ্কসহ বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের । এ যেন বাংলাদেশের বিনিয়োগ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় ।

আশিক চৌধুরীর পূর্ণ নাম চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন । চাঁদপুরে জন্ম হলেও বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কেটেছে যশোরে । শিক্ষা জীবন শুরু করেন সিলেট ক্যাডেট কলেজে, পরে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)–এ ।

স্নাতক সম্পন্ন করে চলে যান যুক্তরাজ্যে । লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে ফাইনান্সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন ।

পেশাগত জীবন শুরু করেন ২০০৭ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো–তে । এরপর কাজ করেছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক–এ, যেখানে ছিলেন ল্যান্ডিং স্ট্র্যাটেজি ও ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং ম্যানেজার ।

এরপর আশিক যুক্ত হন দ্য বেঞ্চ নামক দেশের প্রথম স্পোর্টস বারের সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে । ২০১২ সালে লন্ডনে আমেরিকান এয়ারলাইন্স–এ ফিনান্সিয়াল ও স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্ট পদে যোগ দেন ।

একই সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি)–তে ভিজিটিং প্রফেসর, এবং গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট–এর উপদেষ্টা ।

পরবর্তীতে যোগ দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশ–এ এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে এইচএসবিসির গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন । সেখান থেকেই তাঁকে দায়িত্বে নিয়ে আসেন ডক্টর ইউনুস ।

এ দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে আশিক লেখেন-“সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এক দুপুরে প্রফেসর ইউনুস হঠাৎ ফোন করে বললেন, ‘আশিক, দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া গেছে, আসবা নাকি?’ আমি নন্দিনীকে জিজ্ঞেস না করেই রাজি হয়ে গেলাম । জানতাম, ও কোনদিন মানা করবে না ।”

তিনি আরও লেখেন-“৪৯ সেকেন্ডের এক হোয়াটসঅ্যাপ কলে আমরা সিঙ্গাপুরের বিলাসী জীবন ছেড়ে ছুড়ে দেশের পথে রওনা দিলাম বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে । বন্ধুদের ভাষায় আমি এখন বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ।”

আশিক চৌধুরী শুধু একজন অর্থনীতিবিদ বা প্রশাসকই নন, তিনি একজন পেশাদার স্কাই ডাইভার । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪১ হাজার ফিট উচ্চতা থেকে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে লাফিয়ে পড়ে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড ।

এত উচ্চতা থেকে কোন ব্যানার বা পতাকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান আশিক চৌধুরী ।

যেভাবে আশিক চৌধুরী দেশের পতাকাকে আকাশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন, ঠিক সেভাবেই তিনি যেন বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও নিয়ে যান নতুন এক উচ্চতায়-এমনটিই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা তিনি ইতোমধ্যে যেভাবে বিনিয়োগ পরিবেশকে সচল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ।

গিনেস বুক থেকে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত-আশিক চৌধুরীর যাত্রা যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প । আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণে তাঁর অবদান কতখানি তা সময়ই বলে দেবে, তবে সূচনা যে দুর্দান্ত, তা বলাই যায় ।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।