‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বিএনপি আসলে ভারতকে ভয় পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন,
সরকার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও ফেলানি হত্যার স্মৃতি সরিয়ে দিয়েছে। ‘সরকারের আপসকামী অবস্থানের সুযোগ নিয়েই দিল্লিতে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন,’ বলেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে এনসিপির প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নির্বাচনের পর জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে আবু সাঈদের স্মৃতিসহ জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান সেখানে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তার ভাষ্য।
জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, ফেলানি হত্যা ও ভারতবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও জাদুঘরে যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক।
অভ্যুত্থানের ইতিহাস উপস্থাপনে বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদসহ শহিদদের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখনও জাদুঘরে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।’
পরিচিত কয়েক মুখকে বারবার সামনে না এনে গণঅভ্যুত্থানের সামগ্রিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’
আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাদুঘর পরিচালনা এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে জাদুঘরের অব্যবহৃত স্থানগুলো আরও সৃজনশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বানও জানান নাহিদ ইসলাম।