শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

১৩০০ কোটি টাকার সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ পেলো ‘শপআপ’

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপ ও গালফ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি মার্কেটপ্লেস ও সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ‘সারি’ জোট বেঁধে গঠন করলো সিল্ক গ্রুপ। এর ফলে এশিয়া ও গালফ অঞ্চল মিলে গঠিত হলো একটি অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা ভোক্তা বাজারকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বুধবার (৯ এপ্রিল) শপআপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে […]

১৩০০ কোটি টাকার সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ পেলো ‘শপআপ’

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৪০

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপ ও গালফ অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বিটুবি মার্কেটপ্লেস ও সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ‘সারি’ জোট বেঁধে গঠন করলো সিল্ক গ্রুপ। এর ফলে এশিয়া ও গালফ অঞ্চল মিলে গঠিত হলো একটি অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা ভোক্তা বাজারকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

বুধবার (৯ এপ্রিল) শপআপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যাত্রার শুরুতেই সিল্ক পেয়েছে সৌদি সরকারের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ তহবিল পিআইএফের সানাবিল ইনভেস্টমেন্ট ও পিটার থিয়েলের ভালার ভেঞ্চারসের কাছ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। এর মধ্যে রয়েছে ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট ও সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালের জন্য অর্থায়ন সুবিধা।

এই বিনিয়োগ এসএমইভিত্তিক জিডিপি বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

শপআপ ও সারি এখন পর্যন্ত ছয় লক্ষাধিক খুচরা বিক্রেতা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এবং পাইকারদের সেবা দিয়েছে, যা থেকে উপকৃত হয়েছে লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার। যৌথভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে এবং এমবেডেড ফাইন্যান্স হিসেবে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থছাড় হয়েছে।

এখন পর্যন্ত তারা বাজারে ১০ কোটি পণ্য সরবরাহ করেছে। এই সব কার্যক্রমের মাধ্যমে সিল্ক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা আর্থিক, বাণিজ্যিক এবং লজিস্টিক পরিষেবা প্রদান করে ব্যবসার দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

একীভূত হওয়ার পরেও শপআপ ও সারি তাদের নিজ নিজ ভৌগোলিক অঞ্চলে নিজস্ব নামেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে সিল্কের অবকাঠামো ব্যবহার করবে উভয় প্রতিষ্ঠানই। পাশাপাশি, সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালকে গ্রুপটির অর্থায়ন শাখা হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দুই দেশের বাজারেই এমবেডেড ফাইন্যান্সিং এবং পয়েন্ট-অব-সেলস ব্যবসার স্কেল বাড়াবে।

শপআপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আফিফ জামান সিল্ক গ্রুপ সিইও পদে থাকবেন ও শপআপ-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহিম চৌধুরী শপআপ (বাংলাদেশ) সিইও হিসেবে এ অঞ্চলের সকল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। সারি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মদ আলদোসারি হবেন সিল্ক ফাইন্যান্সিয়ালের সিইও।

শপআপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আফিফ জামান বলেন, ‘এই জোট তৈরির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক করিডোরগুলোর একটিতে প্রবেশ করছি, যার আকার ৬৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও ভোক্তাদের কাছে আমরা বৈশ্বিক পণ্য পৌঁছে দিতে পারব ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে সিল্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।’

সিল্ক ফাইন্যান্সিয়াল সিইও মোহাম্মদ আলদোসারি বলেন, ‘আমাদের শক্তিগুলো একত্রিত করে আমরা শুধু আমাদের ব্যবসার পরিসর বাড়াচ্ছি না। বরং গালফের ব্যবসায়ী ও দক্ষিণ এশিয়ার উৎপাদকদের জন্য ডিজিটাল বাণিজ্যের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছি।

এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের বিস্তৃত আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তির মত সেরা দিকগুলোকে একত্র করেছে। এর ফলে আমাদের ইকোসিস্টেমের প্রতিটি ব্যবসা উপকৃত হবে যার মূল উপাদান হিসেবে থাকবে আর্থিক সেবা।’

ভালার ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাকালীন পার্টনার জেমস ফিটজজেরাল্ড বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি চমকপ্রদ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গল্প রয়েছে। এই একীভূত হওয়া একটি সাহসী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন যা এই বাজারগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত একটি নতুন বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করবে।

একদল সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সিল্ক গঠিত হয়েছে। সিল্ক এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে এই খাতকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা রাখে।’

সানাবিল ইনভেস্টমেন্টসের মুখপাত্র বলেন, ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে সিল্ক একটি শীর্ষস্থানীয় বিটুবি কমার্স প্লেয়ারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম যা আর্থিক, লজিস্টিকস ও কমার্স সেবাকে একত্রিত করে বিটুবি ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করে।

এই একীভূত হওয়ার মাধ্যমে সিল্কের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। এটি যেন সব অংশীজনের জন্য উপকার বয়ে আনে সেজন্য আমরা কোম্পানির নেতৃত্বকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।