জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সোমবার (১৭ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশের খনিজ সম্পদের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাপেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে গত ১০ থেকে ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। তারপরও সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি খাতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বড় উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যে নথি দেওয়া হয়েছে, তা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে ‘সংশোধন’ শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে নিজেদের নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরবে। নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তবে বড় কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে তা আলোচনার মাধ্যমে নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সেখানে কোনো বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সময়ে অর্জন হয়তো খুব বেশি নয়, তবে একেবারেই কমও নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি যারা সরকারের বিরোধিতা করেছেন, তাদের সমালোচনাকেও তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আরও আলোচনা করেন নজরুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী ও ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাহিদুল ইসলাম রনিসহ সংশ্লিষ্টরা।