বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জামিন-খালাস বাণিজ্যে ধনকুবের আনিসুল হক

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনি হলফনামায় তিনটি পুকুর, কৃষিজমির ফসল ও মাছ চাষাবাদের তথ্য দিয়েছিলেন। এই আয়ের উৎস থেকে তিনি গত কয়েক বছরেই শত শত কোটি টাকার মালিক। এরপর অল্প সময়েই সিটিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ধনকুবেরের তালিকায় নাম লেখান সাবেক এই মন্ত্রী। মুখে বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলা হলেও তার কথা ছাড়া জামিন দিতে পারতেন না […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৫৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনি হলফনামায় তিনটি পুকুর, কৃষিজমির ফসল ও মাছ চাষাবাদের তথ্য দিয়েছিলেন। এই আয়ের উৎস থেকে তিনি গত কয়েক বছরেই শত শত কোটি টাকার মালিক। এরপর অল্প সময়েই সিটিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ধনকুবেরের তালিকায় নাম লেখান সাবেক এই মন্ত্রী।
মুখে বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলা হলেও তার কথা ছাড়া জামিন দিতে পারতেন না বিচারকরাও। আলোচিত মামলার আসামিদের জামিন করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আর ডলার নিতে বিশ্বস্ত ডালপালা তৈরি করেছিলেন। এসব ডালপালা ফুলেফেঁপে গাছে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর তারাও পলাতক। জামিন করাতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরতও দিতেন না। বলতেন, বিচারের সময় ‘খালাস’ করে দেবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিন্তু এসব অভিযোগ আমলে নিতেন না শেখ হাসিনা। সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করতেন বিগত পতিত সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহারকারী সালমান এফ রহমান। দুজনের সম্পর্কও ছিল মধুর। এ কারণে তারা গ্রেফতারও হয়েছেন একসঙ্গে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মুখে নীতিবাক্য বললেও ঘুসের হাট বসিয়েছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী। বিগত বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে সাবরেজিস্ট্রার নিয়োগ, পদায়ন এবং আলোচিত মামলার আসামিদের জামিন করাতে। বিশেষ করে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষিপ্ত ছিলেন নিু আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের বিচারকরাও। এ বিষয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গোপনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়।
বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলায় বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমনপীড়নে বিচারকদের ব্যবহার করায় ক্ষিপ্ত ছিলেন তারা। রাজনৈতিক মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের ইশারার অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বিচারকদের। বিবেকের তাড়নায় বিষয়টি মানতে পারতেন না বিচারকরা। জানা গেছে, আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তার এক সময়ের এপিএস, পরে বাক্সবোঝাই অবৈধ ব্যালটে নির্বাচিত বিলুপ্ত কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার জীবন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যান।
৫ আগস্টের পর তিনি পলাতক। সাবেক এই মন্ত্রীর আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল। মন্ত্রীর নির্বাচনি হলফনামার তথ্যমতে তিনটি পুকুর, কৃষিজমির ফসল ও মাছের চাষাবাদ ছিল আয়ের প্রধান উৎস। এর পর মন্ত্রী হওয়ার তার সম্পদের হিসাব বাড়তে থাকে। ঘুসের টাকা গুনতে বাসায় বসিয়েছিলেন টাকা গোনার মেশিন। সিটিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় ৪শ কোটি টাকা জামানত এবং ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন দিয়ে ব্যাংকের যাত্রা শুরু করেছিলেন আনিসুল হক। তার মা প্রথমে এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর বহুল আলোচিত তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান করা হয়। এই তৌফিকা করিমই ছিলেন আনিসুল হকের চালিকাশক্তি। তিনি যা বলতেন তাই করতেন আনিসুল হক। এই তৌফিকা করিমের ছেলে ও মেয়েকে কানাডায় বাড়ি করে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ‘প্রাইভেট একটি টেলিভিশনে ৪০ ভাগ শেয়ার আছে তার।
আয়বহির্ভূত টাকার উৎস : তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সুদীর্ঘ নয় বছর ধরে মেঘনা-গোমতী ব্রিজের টোল কালেকশন করেছেন আনিসুল হকের ভাই আরিফুল হক। তার স্ত্রী-পুত্রের নামে আমেরিকায় বাড়িও কিনে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংক-ব্যালেন্স হিসাবে জমা রাখার অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন আনিসুল হকের সহযোগী কসবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জীবন ও আখাউড়ার সাবেক পৌর মেয়র কাজল। আখাউড়া ও কসবার অন্তত ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার প্রার্থীর কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা করে ঘুস বাণিজ্য নেওয়ার তথ্য উল্লেখ করে ওই সময়ই দুদকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দেওয়া হয়। সাবেক এপিএস জীবন ও সাবরেজিস্ট্রার রমজান খানের মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে অন্তত শতকোটি টাকা হাতিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বনি আজমল ছিলেন হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।
এই আজমল কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন চোরাইপথে অবৈধভাবে গাঁজার ব্যবসায় জড়িত। এজন্য আনিসুল হককে জীবন ও বাবু নামের একজন মাসোহারা দিয়ে গাঁজার ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আনিসুল হকের আপন ফুপাতো ভাই কুটি ইউনিয়নের বিনা ভোটে চেয়ারম্যান স্বপন ওই এলাকার স্মাগলিং জোন নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তার নিজ গ্রামে একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করে এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া আখাউড়ার সাবেক পৌর মেয়র কাজল ওই এলাকার মানুষকে চাকরি দেওয়ার নামে শত শত বেকার যুবককে নিঃস্ব করেছেন। কোটি কোটি টাকা এনে আত্মসাৎ করেছেন এই কাজল। চাকরির এই বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন কসবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জীবনও। দুই উপজেলা থেকে এই খাত থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা লোপাটের অভিযোগ আছে।
তদবিরের ডালপালা : তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তদবিরের টাকা এক সময় নিতেন এপিএস জীবন। বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্নীতির মামলার তদবিরের লেনদেন হতো আনিসুল হকের গুলশানের অফিসে। এপিএস জীবন উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর সব লেনদেনের দায়িত্ব পান বিতর্কিত তৌফিকা করিম।
এই তৌফিকা হচ্ছেন পিয়াস করিমের আপন বোন। তৌফিকাকে মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিয়োগ দিয়ে সামাজিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা করেন। তদবিরের টাকা লেনদেনে আরও যুক্ত ছিলেন আনিসুল হকের এক ভাগ্নে। সব বড় বড় দুর্নীতির মামলার আসামিদের জামিনের গ্যারান্টি দিতেন তিনি। বড় বড় ক্রিমিনালদের হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর নিু আদালত থেকে জামিন করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেন।
জানা যায়, টাকার বিনিময়ে নতুন বিচারপতি নিয়োগের মতো ঘটনা অতীতে ঘটেনি। চরম অযোগ্য ও বিতর্কিত ৩ জন জেলা জজ এবং ৫ জন অযোগ্য আইনজীবীকে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে তৌফিকা করিমের মাধ্যমে। তাদের নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর ডিজায়ার’।
তদবিরের আলামত : আনিসুল হকের খোঁজখবর রাখতেন এমন একজন ব্যবসায়ী  বলেন, ফার্মার্স ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকারী রাশেদুল হক চিশতীকে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্ট জামিন দেননি। অথচ ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতের বিচারককে বাধ্য করে জামিন করান আনিসুল হক। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। তখন সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারপতিকে সুপ্রিমকোর্টে পদোন্নতির লোভ দেখিয়ে নিু আদালতের আদেশ বহাল করতে বাধ্য করেন।
অতঃপর দুদক সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। সেখানেও তদবির করেন আনিসুল হক। তার তদবিরে বিব্রতবোধ করে বিচারপতি ২০২০ সালের ১৮ জুন ওই মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠান। পরে প্রধান বিচারপতি নতুন করে আরেক বিচারপতিকে মামলার শুনানির দায়িত্ব দেন।
তখন শুনানি শেষে জামিন স্থগিত করা হয়। নিু আলাদত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে জামিন করিয়ে দেওয়ার শর্তে ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। হলমার্কস গ্রুপের দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত জামিন পায়নি আসামি জেসমিন। বিপুল টাকা নিয়ে নিু আদালতে চাপ সৃষ্টি করে জামিন করিয়ে দেন আনিসুল হক। পরে দুদকের আপিলে জামিন উচ্চ আদালত স্থগিত করে দেন।
এই তদবিরের মধ্যস্থতাকারী টাকা ফেরত চাইলে আনিসুল হক বলতেন, ‘বিচারের সময় খালাস করিয়ে দেবেন।’ মতিঝিলের মিজান টাওয়ারের মালিক মিজানুর রহমান ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের আসামি। তাকে সুপ্রিমকোর্টও জামিন দেননি। অথচ মহানগর দায়রা জজকে হাইকোর্টের বিচারপতি করার লোভ দেখিয়ে জামিন করিয়ে নেন আনিসুল। বিএনপি নেতা ও সাবেক একজন হুইপের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির প্রায় ১ ডজন মামলা বাতিল করাতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করে ব্যর্থ হন। এসব মামলা থেকে তাকে খালাস করে দেওয়ার চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের টাকা নেন আনিসুল হক।
বিএনপির এই পরিবারের কাছ থেকে টাকার অঙ্কের সমপরিমাণ ডলার নেওয়া হয় গুলশানে তার অফিসে। চাঞ্চল্যকর সুলতান হত্যা মামলার আসামিকে জামিন করার শর্তে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন তিনি। বিচারপতি খাস কামরায় গিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রীর পক্ষে তদবির করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। একজন সৎ বিচারপতি তদবির না শোনায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওই মামলা আরেক বিচারপতির এজলাসে জামিন করানো হয়। ওই বিচারপতি ছিলেন মহিলা।
জুডিশিয়াল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, চট্টগ্রাম কারাগারের বরখাস্তকৃত জেলার সোহেল রানার কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জামিন করার শর্তে। কিন্তু ২০২০ সালের ২৩ জুন ওই জামিন উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর ওই টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। বিছমিল্লাহ গ্রুপের ৫টি মামলায় নেওয়া হয়েছে ৩ কোটি টাকা। গুলশানের যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যার দুজন আসামিকে জামিন করানোর শর্তে নিয়েছিলেন ২ কোটি টাকা।
তাদের জামিন হয়নি অথচ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। গুলশানের রেইন্ট্রি হোটেলের ধর্ষণ ঘটনায় মূল আসামিকে জামিনের শর্তে নেওয়া হয় ২ কোটি টাকা। এই টাকা ডলারে নিয়েছেন আনিসুল হক। ওই ঘটনায় কয়েকটি জুয়েলারিতে পাওয়া অবৈধ স্বর্ণের মামলায় কয়েকজনকে জামিন করিয়ে দেওয়ার শর্তে নিয়েছিলেন ৫ কোটি টাকা।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বেশ কয়েকটি মামলায় কারাগারে থাকায় অভিযোগের এসব বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অর্ন্তবর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়।

এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।