রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারাখানা,বিপর্যস্ত শিল্প

গ্যাস সংকটের মরণ থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশের গোটা শিল্প খাত। ছোট-বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়ায় চলে গেছে। ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মালিকরা হয়ে পড়েছেন ঋণগ্রস্ত। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলোতে শ্রমিকের পাওনা বেতন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্প মালিকরা। উপায় না থাকায় অনেকেই করছেন […]

নিউজ ডেস্ক

২৮ জানুয়ারী ২০২৫, ১৪:৪৮

গ্যাস সংকটের মরণ থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশের গোটা শিল্প খাত। ছোট-বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়ায় চলে গেছে। ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মালিকরা হয়ে পড়েছেন ঋণগ্রস্ত। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলোতে শ্রমিকের পাওনা বেতন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্প মালিকরা। উপায় না থাকায় অনেকেই করছেন শ্রমিক ছাঁটাই। আবার গ্যাস না পেয়ে কারখানাগুলোর কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্যোক্তারা শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পুরনো ব্যবসায়ীরাও নিজেদের উৎপাদন কমিয়ে আনছেন।
শিল্প মালিকদের অনেকেই বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের শিল্প খাত ধ্বংসের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছে। শিল্প খাত যে কোনো সময় গুঁড়িয়ে যেতে পারে।

এ অবস্থায় কারখানা মালিকরা এক ধরনের অস্থিতিশীল অবস্থা পার করছেন। গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের অনেকেই কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁরা আরও বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতাদের অর্ডারের পণ্য দিতে পারছি না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অর্ডার সময়মতো দিতে না পারায় ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। এতে ক্রেতারাও আমাদের ওপর এখন বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

আমাদের ওপর বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে গত বছরের শেষ দিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন জানান, গ্যাস সংকটের কারণে সিরামিক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। পোশাক খাতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। আর স্টিল কারখানায় উৎপাদন কমেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাসের অভাবে মালিকদের বিভিন্নভাবে কারখানার উৎপাদন ধরে রাখতে হচ্ছে। যেসব কারখানায় গ্যাস সংকটে ফেব্রিকস উৎপাদন করা যাচ্ছে না, তার মালিকরা অন্য জায়গায় পাঠিয়ে ফেব্রিকস উৎপাদন করছেন। গ্যাসের কারণে কেউ কেউ আবার চীন থেকে ফেব্রিকস নিয়ে আসছেন। এতে নিটওয়্যার শিল্প এখন আমদানিনির্ভর রপ্তানি শিল্পে পরিণত হচ্ছে। এতে এর ভ্যালু এডিশন কমে যাচ্ছে। যে ডলার দেশে থাকার কথা তা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এতে ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে যে পরিমাণ পণ্য মালিকদের রপ্তানি করার কথা ছিল তা না হওয়ায়, মাস শেষে শ্রমিকের বেতনও ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে ব্যাংকের যে ঋণ তাও তারা সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হচ্ছে তার একটি গ্যাসসংকট। এটি যদি শিগগিরই সমাধান করা না যায় তাহলে রপ্তানিমুখী পোশাক খাত সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিরামিক খাতের মালিকরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পেলে তাদের কারখানার যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সিরামিক শিল্পের একমাত্র কাঁচামাল হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাস সংকটের কারণে এ শিল্পটি এখন ধ্বংসের সম্মুখীন এবং সিরামিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি ও মুন্নু সিরামিকস ইন্ড্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম গতকাল বলেন, আমাদের খাতে একটি টেবিলওয়্যার এরই মধ্যে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশের শিল্প খাত ধ্বংসের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিস অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের। আমাদের যে সদস্যদের পুরনো গ্যাস সংযোগ আছে তাদের গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের ঠিকই টাকা দিতে হচ্ছে।

বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারাখানা,বিপর্যস্ত শিল্প

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।