গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিরাপদ বোধ করেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।