আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের কথিত ‘আয়নাঘর’-এর বিভিন্ন আলামত নষ্ট করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তের সময় ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে স্থাপনার বাস্তব অবস্থার অমিল দেখা যায়। পরে অনুসন্ধানে কয়েকটি স্থানে দেয়াল তুলে কিছু অংশ আড়াল করার বিষয়টি সামনে আসে। সেই দেয়াল অপসারণের পর সেখানে ২৯টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, কক্ষগুলোর নিচে একটি ‘ডেথ সেল’-ও রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে আলামত নষ্ট বা স্থাপনা পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, র্যাব-১-এর এই টর্চার সেল পরিদর্শনে গিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৯টি কক্ষ দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্য, এসব কক্ষে ভুক্তভোগীদের অমানবিক পরিবেশে রাখা হতো।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা স্থানটি পরিদর্শন করেন। গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ-সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এ পরিদর্শন করা হয়।