নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্যামনগর সদরে কয়েকজনকে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। এদিকে, শুধু দলীয় বহিষ্কার নয়, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে।
বহিষ্কারের পর শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। তবে জেলা জামায়াতের নেতারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করায় জামায়াতকে ধন্যবাদ। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তাকে দলীয় সব পদ থেকে অপসারণ করা হোক।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নৈতিক সংগঠন এবং সেই অবস্থান থেকে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি তদন্ত করে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।